Wednesday, September 27, 2017

নেপাল ও ভুটানের সাথে বাংলাদেশের রেল সংযোগ! ভ্রমণে নতুন সম্ভাবনা


এতদিন বাংলাদেশ থেকে সহজে বিদেশ ভ্রমণ এর কথা আসলে সবার আগে আসত ভারতে ভ্রমণের কথা। ভারতের সাথে আমাদের বিশাল সীমান্ত থাকায় বিভিন্ন দিক দিয়েই সহজে ভারতে যাওয়া যেত, আর ভ্রমণ করার জন্য তাই সবার সহজ ও প্রথম পছন্দ ছিল ভারত। নেপাল ও ভুটানেও যায় বাংলাদেশের মানুষ, কিন্তু স্থলপথে যাওয়া বেশ কষ্টকর বলে তুলনামূলক কম মানুষই যায়।
সেই অবস্থার হয়ত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে বাংলাদেশ সরকার বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের মাধ্যমে রেলপথে ভারতের উপর দিয়ে নেপাল ও ভুটান এর সাথে রেলওয়ে সংযোগ স্থাপন করার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে।
নেপাল ও ভুটান দু'টো দেশই ল্যান্ড-লকড। অর্থাৎ এই দেশ-দুটোকে সম্পূর্ণভাবে স্থলপথে অন্য দেশ ঘিরে রেখেছে। এই দেশগুলোর সমুদ্রপথে কোন রকম যোগাযোগ সম্ভব নয়। একমাত্র স্থলপথে ও আকাশপথে যোগাযোগ সম্ভব। ভারতের সাথে এই দুটো দেশের সীমান্ত রয়েছে এবং সেই কারণে এই দুটো দেশ মূলত বাণিজ্য ও বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি ভারতের উপরে নির্ভরশীল। তাই এই দুটো দেশে ভারতের একচেটিয়া বাজার রয়েছে।
এই অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে যদি বাংলাদেশের সাথে নেপাল ও ভুটান বাণিজ্য করতে পারে। এর ফলে ভারতের একচেটিয়া বাণিজ্যের সুযোগ নষ্ট হবে এবং বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান তিনটি দেশই উপকৃত হবে। বাংলাদেশের জন্য নতুন বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সাথে সাথে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি ট্যুরিস্ট এর একটা নতুন জোয়ার শুরু হবে, যারা স্বল্প ঝামেলায় ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়ে এই দেশগুলোতে বেড়াতে যাবে। এছাড়াও পারস্পরিক চুক্তির মাধ্যমে নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করতে পারবে।
এই নতুন যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা রুটে ৫৭ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এই রুটের সাথে যুক্ত হবার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার উপর দিয়ে সোনা মসজিদ ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করতে হবে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর থেকে নেপাল এর দূরত্ব মাত্র ৬১ কিলোমিটার। আবার ভুটান এর সীমান্তও মাত্র ৬৮ কি.মি দূরে অবস্থিত। এর সাথে বোনাস হিসেবে চীন সীমান্তের দূরত্ব মাত্র ২০০ কিলোমিটার। বাংলাবান্ধায় একটি রেলওয়ে ট্রানজিট তৈরি করতে পারলে সেটা ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও চীন পাঁচটি দেশের মাঝে সৃষ্টি করবে যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা, যেটা একই সাথে পারস্পরিক বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়কে উৎসাহিত করবে।
এই প্রকল্পের প্রাথমিক যাচাই এর জন্য সময় ধরা হয়েছে ২০১৯ সাল এর জুন মাস পর্যন্ত এবং বাজেট ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোন। যাচাই শেষ হলে মূল প্রকল্পে হাত দেয়া হবে।

Tuesday, March 8, 2016

মাত্র ১০,০০০ টাকায় দার্জিলিং ঘুরে আসুন




দেশ দেখে বেড়ানোটা আনন্দের। কিন্তু সেটা যদি হয় আর্থিক সঙ্গতির মধ্যে, তবেই তা সম্ভব। বিভিন্ন মানুষের দেশ দেখে বেড়ানো বিভিন্ন রকম। বিলাসবহুল জীবনযাপন যারা করেন তারা একটু আভিজাত্যের ছাপ রেখেই দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে বেড়ান। কিন্তু সবার সঙ্গতি তো আর সমান নয়। আর সমান নয় বলেই কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে না?

যাবে। অবশ্যই যাবে। চারদিক থেকে নিজের আভিজাত্যকে একটু কাটছাঁট করে নিলেই তা সম্ভব। স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলেই আমাদের চোখের সামনে খুলে যাবে সৃষ্টির অনেক অজানা দুয়ার। আর সেই দুয়ার খুলেই চলুন চট করে বেড়িয়ে আসা যাক, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির মতো সুন্দর স্বপ্নপুরী দার্জিলিং থেকে।

কিভাবে যাবেন?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভোর নগরী পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব চিরহরিৎ ভূমির দার্জিলিংয়ে স্থলপথে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি দার্জিলিং যেতে চাইলে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারি সীমান্ত অতিক্রম করে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার গাবতলী থেকে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের ভিসা নিয়ে রাত ১০টার সুপার সেলুন চেয়ার কোচে উঠে পড়–ন বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ভাড়া জনপ্রতি আর কত সামর্থের মধ্যেই। ভোর ৭টা নাগাদ আপনি অনায়াসে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারী চেকপোস্টে। ইমিগ্রেশন অফিসের কাছেই সব বাস থামে। প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পন্ন করে নিন ভ্রমণ কর ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। অবশ্য আপনি চাইলে ঢাকা থেকেই ভ্রমণ কর প্রদান করে যেতে পারেন সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখায়। বুড়িমারী অতিক্রম করে ওপারে চ্যাংড়াবান্দা সীমান্তে পৌঁছে একইভাবে সম্পন্ন করে নিন আপনার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। ও ভালো কথা, আপনার বহনকৃত ইউএস ডলার চ্যাংড়াবান্দায় অবস্থিত সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করে নেবেন। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে টাকা ভাঙাতে আপনাকে বেশ বেগ পেতে হবে।

চ্যাংড়াবান্দা থেকে সরাসরি ময়নাগুড়ির বাস ধরে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন শীর্ষেন্দু-সমরেশের উপন্যাসখ্যাত শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ভাড়া জনপ্রতি ৭০ ভারতীয় রুপি। সেখান থেকে ঝটপট ১২০ ভারতীয় রুপির বিনিময়ে সংগ্রহ করে নিন দার্জিলিংগামী কমান্ডার জিপের টিকিট। হাতে শীতের পোশাক নিয়ে বসে পড়–ন আপনার নির্ধারিত আসনে। ব্যস, মাত্র আড়াই ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যাবেন মেঘের দেশ স্বপ্নিল ভুবনের দার্জিলিংয়ে।

তাছাড়া কলকাতা থেকে যেতে চাইলে আপনাকে শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দার্জিলিং মেল ধরতে হবে। টিকিট সংগ্রহ করবেন ট্যুরিস্টদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টার ফেয়ারলি প্যালেস থেকে। অতঃপর প্রায় ৫৭৬ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৪ ঘণ্টার এক ট্রেন ভ্রমণ করে পরদিন সকাল ১০টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। স্টেশন থেকে প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে রিকশাযোগে চলে আসুন শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ১০-১২ রুপি ভাড়া পড়বে।  সেখান থেকে ওই কমান্ডার জিপে চড়ে পৌঁছে যেতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিংয়ে।

কোথায় থাকবেন?
পুঞ্জীভূত মেঘের কণা ভেদ করে আঁকাবাঁকা পথের ধারে পুরো দার্জিলিং শহরে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেলে প্রতিদিনের থাকা এবং খাওয়াসহ জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৮৫০-১২০০ রুপি করে। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই রয়েছে দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় জিপ, সার্বক্ষণিক গরম পানির ব্যবস্থা, ঠাণ্ডা প্রতিরোধে ওষুধসহ যে কোন মুহূর্তে যে কোন সমস্যার তাৎক্ষণিক সেবা।

খাবার-দাবার
ট্যুরিস্টদের জন্য হোটেলগুলোতে সব ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পুষ্টিকর ও রুচিসম্মত খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য ট্যুরিস্টের আগমনের ফলে এখানকার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় একেবারে বাঙালি রুচিসম্মত খাবার-দাবারের জোগান দিয়ে থাকেন। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনার ছাড়াও হোটেল কর্তৃপক্ষ ভোরবেলায় বেড-টি এবং ডিনারের আগে ইভনিং-টি’র ব্যবস্থাও করে থাকেন।

কোথায় বেড়াবেন?
ছোট বড় মিলিয়ে বেড়ানোর জন্য প্রায় ১৭টি আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে দার্জিলিং জুড়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত রেলওয়ে স্টেশন ‘ঘুম’ ছাড়াও আরও যেসব দর্শনীয় স্থান দেখে আপনার আনন্দময় অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে তা হচ্ছে;

সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে অপূর্ব  সুন্দর সূর্যোদয় দেখা। পৃথিবীর বিখ্যাত প্রার্থনা-স্থান ঘুম মোনাস্ট্রি। ছবির মতো অপূর্ব সুন্দর স্মৃতিসৌধ বাতাসিয়া লুপ বিলুপ্ত-প্রায় পাহাড়ি বাঘ Snow Lupard খ্যাত দার্জিলিং চিড়িয়াখানা। পাহাড়ে অভিযান শিক্ষাকেন্দ্র  ‘হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট’।

সর্বপ্রথম এভারেস্ট বিজয়ী তেনজিং-রক- এর স্মৃতিস্তম্ভ। কেবল কারে করে প্রায় ১৬ কিলোমিটার এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ভ্রমণ।

হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেনে বসে তাৎক্ষণিকভাবে পৃথিবীখ্যাত ব্ল্যাক টি পানের অপূর্ব অভিজ্ঞতা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থী কেন্দ্র  তিব্বতিয়ান সেলফ হেলপ্ সেন্টার। সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায়  ৮,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মনোরম খেলাধুলার স্থান দার্জিলিং গোরখা স্টেডিয়াম।

নেপালি জাতির স্বাক্ষর বহনকারী দার্জিলিং মিউজিয়াম। পৃথিবীর বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার জাপানিজ টেম্পল ব্রিটিশ আমলের সরকারি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র  কাউন্সিল হাউস ‘লাল কুঠির’ অসাধারণ শৈল্পিক নিদর্শন খ্যাত ‘আভা আর্ট গ্যালারি’। শতবর্ষের প্রাচীন মন্দির ‘দিরদাহাম টেম্পল’। এসব নিদর্শন ছাড়াও আপনার মনের চিরহরিৎ জগতকে শুধু আনন্দময় নয়, এক নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করাতে চলে যেতে পারেন পাথর কেটে তৈরি ‘রক গার্ডেন’ এবং গঙ্গামায়া পার্কে উপরোল্লিখিত দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও আপনার হদয় গহিন থেকে রোমাঞ্চিত করবে মহান সৃষ্টিকর্তার বিশাল উপহার হিমালয় কন্যা ‘কাঞ্চন-জংঘা’, বিশুদ্ধ পানির অবিরাম ঝর্ণাধারা ‘ভিক্টোরিয়া ফলস্’ এবং মেঘের দেশে বসবাসরত এক সুসভ্য জাতির সংস্কৃতি।

কেনাকাটা
দার্জিলিং শহরের লাডেন-লা রোডের কোল ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় মার্কেট। দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য প্রায় সব জিনিসই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ক্রয়- ক্ষমতার মধ্যে। সবচেয়ে ভালো পাবেন শীতের পোশাক। হাতমোজা, কানটুপি, মাফলার, সোয়েটারসহ যে কোন প্রকারের লেদার জ্যাকেট পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দমতো মূল্যে। তাছাড়া ১০০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন অসাধারণ কাজ করা নেপালি শাল এবং শাড়ি যা আপনার পছন্দ হতে বাধ্য। প্রিয়জনকে উপহার দিতে সর্বনিু ২০ রুপি থেকে ২৫০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন অ্যান্টিক্স ও নানাবিধ গিফট আইটেম, যা আপনার প্রিয়জনের ভালোবাসা কেড়ে নিতে সক্ষম। তাছাড়া আকর্ষণীয় লেদার সু আর বাহারি সানগ্লাস তো আছেই। কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার আশংকা একেবারেই নেই। তবে হোটেলগুলোতে কিছু নেপালি তরুণ-তরুণী ভ্রাম্যমাণ ফেরি করে শাল, শাড়ি বিক্রয় করে থাকে। তাদের কাছ থেকে না কেনাটাই উত্তম।

ঝুঁকি
মানুষের জীবনটাই একটা বড় ঝুঁকি। তার পরেও সাবধানতা অবলম্বন করে ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার প্রয়াস পেয়েছে মানুষ দীর্ঘকাল। দার্জিলিং ভ্রমণেও ছোটখাটো কিছু ঝুঁকি রয়েছে। মাঝে-মাঝেই পাহাড়ি অঞ্চলে  ছোটখাটো ধস নামে। তবে সেটা বেশি হয় বর্ষা মৌসুমে। শীত বা গরমে সে ঝুঁকিটা একেবারেই নেই। আর গরম জামাকাপড় ব্যবহারে অবহেলা না করলে ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকিটাও কমে যায় একেবারেই। তাছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সবরকম বিষয়ে পরামর্শ করে চলাফেরা করলে স্থানীয় দালাল বা হারিয়ে যাওয়ার আশংকা থেকেও আপনি পেয়ে যাবেন পুরোপুরি মুক্তি।

মোট খরচ
স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলে শীত মৌসুমে মাত্র ১০,০০০ টাকার মধ্যেই আপনি সেরে নিতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিং দেখার যাবতীয় কার্যক্রম। ভালো কথা, এ হিসাবটা শুধু  বুড়িমারী সীমান্ত পথের। কলকাতার শিয়ালদহ হয়ে গেলে এ হিসাব বেড়ে দাঁড়াবে সর্বসাকুল্যে ১৫০০০ টাকায়। আমাদের দেশে রয়েছে অসংখ্য ট্যুরিজম কোম্পানি, যারা দার্জিলিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে।

আশপাশে
দার্জিলিং শহর থেকে কিছুটা দূরে নেপাল শহরের নিকটবর্তীতে অবস্থান করছে মিরিক লেক ও পশুপতি মার্কেট। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে জনপ্রতি ৪৫০ রুপি ভাড়ার মধ্যে আকর্ষণীয় জিপে ঘুরে আসতে পারেন। সেজন্য অবশ্য আরও একটি দিন বেশি অতিবাহিত করতে হবে দার্জিলিং শহরে। তবুও যাত্রার দিন থেকে নিয়ে সর্বমোট ৫ দিনেই সবকিছু ঘুরে-ফিরে আসতে পারবেন আপনার প্রিয়জনদের মাঝে অপূর্ব স্বপ্নিল অভিজ্ঞতা নিয়ে।

Tuesday, January 26, 2016

অ্যামাজন এর প্রোডাক্ট কেনা বাংলাদেশ থেকে

অ্যামাজন এর কিছু কিছু সেলার বাংলাদেশে প্রোডাক্ট শিপ করলেও ট্যাক্স শিপিং চার্জ অনান্য কিছু মিলিয়ে অনেক খরচ পড়ে যায়। একটা সহজ উপায় হচ্ছে ব্যাকপ্যাক এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট কেনা।

ব্যাকপ্যাকে কারো রেফারেলে সাইনআপ করলে ৫০০ টাকা ক্রেডিট দেয়। কোন প্রোডাক্ট কিনলে ঐ ক্রেডিট থেকে খরচ করা যায়। আর বাকি টাকা পেমেন্ট করলেই হয়। অ্যামাজনে অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিস রয়েছে। যেহেতু সাইনআপ করলে ৫০০ টাকা পাচ্ছেন, সে গুলো সহজেই কাজে লাগাতে পারেন। সুবিধে হচ্ছে বিকাশেও টাকা পেমেন্ট করা যাবে।


https://backpackbang.com/r/1000006412

অ্যামাজন থেকে কোন প্রোডক্ট কিনতে চাইলে কোন অ্যামাজনে দেখে নিবেন প্রথমে। এরপর ব্যাকপ্যাকে ঐ নাম দিয়ে সার্চ করলে পেয়ে যাবেন। এবং Add to cart এ ক্লিক করে নিজের তথ্য দিয়ে চেক আউট করা যাবে। পেমেন্ট অপশনে গেলে ব্যাকপ্যাক ক্রেডিট ছাড়া বাকি টাকা কার্ড বা বিকাশে পেমেন্ট করতে পারবেন। এরপর তারা বলে দিবে কত দিনের মধ্যে প্রোডাক্ট পাবেন।

অপরিচিত কোন ব্র্যান্ডের কিছু না কিনলেই ভালো হবে। কারণ ইমেজ দেখে একটা প্রোডাক্ট কেমন, তা বুঝা যাবে না। তাই পরিচিত কোন ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট কেনাই ভালো হবে।

Tuesday, December 15, 2015

সৌন্দর্যের জুরাছড়ী


ধংস নয় রক্ষা কংক্রিট নয় প্রকৃতি আসুন আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থেই প্রকৃতি রক্ষা করি। এই স্লোগানকে ধারণ করেই ট্রলারে চেপে ছুটে গিয়েছিলাম রাঙ্গামাটি জেলার গহিনের সৌন্দর্য জুরাছড়ি। সাধারণ পর্যটকেরা সাধারণত ওই দিকে তেমন একটা যান না। জুরাছড়ি রাঙ্গামাটি জেলার অত্যন্ত দুর্গম এক উপজেলা। অধিকাংশ ভ্রমণ পিপাসুর কাছে এর অপার নয়ন জুড়ানো সৌন্দর্য রয়েছে অজানা। এ ছাড়া থৈ থৈ পানিতে নৌভ্রমণের মজাই পাবেন আলাদা।
রাতের গাড়িতে চড়ে পৌঁছে যাই ভোর ৪.৩৫ মিনিটে। ফোন পেয়ে গাইড হারুন আর ট্রলার মালিক যেন বিছানা থেকে লাফিয়ে ওঠে। দলে আমরা ১৪ জন। রিজার্ভ বাজার থেকে নাশতা পর্ব শেষেই উঠি গিয়ে ট্রলারে। চলতি তিন দিন এই ট্রলারই হবে আমাদের বাড়ি। ঘরগোস্ত, মোরগ, বাজার সদাই সবই আগে থেকে রেডি। আল্লাহর নাম নিয়ে ট্রলার ছাড়ে কাপ্তাইয়ের নীলাভ পানিতে। দে-ছুটে চান্স পাওয়া নতুনদের উচ্ছ্বাস ছিল যেন একটু বেশিই বেশি। সবুজে মোড়ানো পাহাড় আর কাপ্তাই লেকের নীল পানি সঙ্গী করেই ট্রলার এগিয়ে যায় প্রাকৃতিক স¦র্গ পানে। যতই এগিয়ে যাই ততই সামনের পাহাড়গুলো যেন দূরে সরে যায়।
কখনো কখনো চার পাশের মায়াময় প্রকৃতির ঘোরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ি, টনক ফিরে যখন চেংড়া পোলা ইউশা অতি উচ্ছ্বাসে চলতি ট্রলার থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে। জুরাছড়ি যাওয়ার পথে নৈসর্গিক দৃশ্যের মাঝে ছোট ছোট দ্বীপে মানুষের বসত দেখে উচ্ছ্বাসে সবাই ছাউনিতে গিয়ে বসি। দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল।
পড়ন্ত বিকেলে যেন আমরা নিজেরাই হারিয়ে যাই অসম্ভব সৌন্দর্যের মাঝে। মাঝিও ঠিক পথ চিনে উঠতে পারছিল না। অনেকেই চেঁচামেচি করলেও আমি থাকি নিশ্চুপ, ভাবি এই তো মোক্ষম সুযোগ! আহ কী মজা, ওর ভুলে না হয়ে আমরা ঘুরে দেখি আরো কিছুটা মায়াবিনী পানিপথ। বর্ষায় পাহাড়ের সৌন্দর্যই যেন অন্যরকম আর শরৎ এ প্রকৃতি নিজেকে মেলে ধরে ভিন্ন আমেজে।
জুরাছড়ি যাওয়ার পুরোটা পথ এমন সৌন্দর্যের অবগাহন যে, যত দূর চোখ যায় শুধু সবুজের মাখামাখি।কখনো কখনো মনে হয়েছিল নীল আসমানটা যেন নেমে আসছে দে ছুটের দামালদের সাথে দুস্তি পাতাতে। শেষ বিকেলে গিয়ে পৌঁছি বড়তলী ঘাটে। জাল পাতার কারণে ট্রলার আর সামনে এগোবে না অগত্যা নেমে পড়ি। আগে থেকেই ডি, এস-বির দু’জন অফিসার এসে হাজির।
তাদের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষেই ভাড়া খাটা বাইকে ছুটি থানা ভবনে। পথের দুই পাশে পাহাড়ের সারি, মাঝে আঁকাবাঁকা পিচঢালা পথ কখনো মনে হবে বাইক এই বুঝি পথ ভুল করে হারিয়ে যাচ্ছে ঘন জঙ্গলের মাঝে।
সে এক অসাধারণ ভালো লাগা, লিখে বুঝাবে এমন কোনো লেখকের সাধ্য নেই। দুই চোখে দেখার সুযোগ না হলে শুধু অনুভবে কারো বুঝার সাধ্য নেই জুরাছড়ির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপলব্ধি করার। থানা ভবনে সেকেন্ড অফিসার এসআই জিয়া সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আবিষ্কার করি ভিন্ন এক সৌন্দর্য, শুরু হয় রাত পোহানোর নতুন এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। সেই সৌন্দর্যের বর্ণনা আর মসজিদে রাত যাপনের গল্প আজ না হয় তুলে রাখি আরেক দিনের জন্য।
যাতায়াত : ঢাকা কমালাপুর ও গাবতলী থেকে রাতে বিভিন্ন পরিবহনের বাস ছেড়ে যায় রাঙ্গামাটি।
ভাড়া নন-এসি ৬২০ টাকা। ট্রলার তিন দিনের জন্য নেবে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। লঞ্চ যোগেও যেতে পারেন রিজার্ভ বাজার থেকে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। ভাড়া জনপ্রাত ১৬০ থেকে ২০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন : রাতে ট্রলারেই থাকতে হবে এমন প্রস্তুতি নিয়েই উঠতে হবে।

খাবেন কোথায় : বাজার সদাই করে নিতে হবে। রান্নার আয়োজন ট্রলারেই সারতে হবে।

ব্যয় : দল বড় হলে মাথাপিছু ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা হলেই হবে তবে খরচ নির্ভর করবে নিজেদের ওপর।

আর কী কী দেখবেন : বরকল বিজিবি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে ভূষণছড়া ও ছোট হরিণা যেতে পারেন এবং ফেরার দিন মিটিঙ্গাছড়ি, সুবলং ঝর্ণা, ঝুলন্ত ব্রিজ ও ডিসি হিল পার্কে ঘুরতে পারেন।

সাথে যা নিবেন : লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিবেন। সম্ভব হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে যাবেন। দল বড় করার চেয়ে ছোট দলে দুর্গম পথে অধিক আনন্দ।

Thursday, December 3, 2015

বাংলাদেশের সৈকতগুলো


কক্সবাজার
পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতটি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বছরজুড়ে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে এখানে।
কিভাবে যাবেন
সড়ক ও আকাশপথে সরাসরি কক্সবাজার আসা যায়। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সরাসরি কক্সবাজারগামী শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস সার্ভিস হলো-গ্রীন লাইন পরিবহন (ঢাকা-০২-৩৯৪২৫৮০, ০২-৯৩৩৯৬২৩, চট্টগ্রাম-০৩১-৬৩০৫৫১, ০১৭৩০০৬০০৮৫, কক্সবাজার-০৩৪১-৬৩৭৪৭, ০৩৪১-৬২৫৩৩)। সোহাগ পরিবহন (ঢাকা-০২-৯৩৪৪৪৭৭, ০১৭১১৬১২৪৩৩, চট্টগ্রাম-০৩১-৬১৬৫২০০, ০১৭১১৭৯৮৩৪৪, কক্সবাজার-০৩৪১-৬৪৩৬১, ০১৭১১৪০০২২২)। সৌদিয়া পরিবহন (ঢাকা-০১৯১৯৬৫৪৯২৬-৩৫, চট্টগ্রাম-০৩১-২৮৬৩৩৯৯, ০১৯১৯৬৫৪৯০২, কক্সবাজার-০১৯১৯৬৫৪৯১৬-১৭)। টি আর ট্রাভেলস (ঢাকা-০২-৮০৩১১৮৯, ০১১৯১৮৬৩৬৭৪, চট্টগ্রাম-০৩১-৬১১৮৯৬, ০১১৯১৮৬৩৬৭৬, কক্সবাজার- ০১১৯১৮৬৩৬৮০-৮১)। হানিফ এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা-০২-৯১৩৫০১৮, ০১৭১৩৪০২৬৭০, চট্টগ্রাম-০১৭১৩৪০২৬৬৩, কক্সবাজার-০১৭১৩৪০২৬৬৮-৯)। বাগদাদ পরিবহন (ঢাকা-০২-৭১০০৫৩১, ০১৭৩০০৪৬০৫০, চট্টগ্রাম-০৩১-২৮৫৪৬৭৬, ০১৭৩০০৪৬০১০, কক্সবাজার-০৩৪১-৫১১৬১, ০১৭৩০০৪৬০৬০) এসব বাসে ঢাকা-কক্সবাজারের এক পথের ভাড়া ১১০০-১৬০০ টাকা। এ ছাড়া কক্সবাজারের পথে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে সরাসরি চলাচলকারী নন এসি বাস সার্ভিস হলো-এস আলম সার্ভিস (ঢাকা-০২-৯৩৩১৮৬৪, চট্টগ্রাম-০৩১-৬১১০৩৭, কক্সবাজার-০৩৪১-৬৪২৮৬, ৬২৯০২)। সৌদিয়া পরিবহন (ঢাকা-০২-৯৩৩৮৫১০, চট্টগ্রাম-০৩১-৬৩৫০০৭, কক্সবাজার-০১৯১৯৬৫৪৯১৭)। শ্যামলী পরিবহন (০২-৭১০১৯১০, ৯১৪১০৪৭, চট্টগ্রাম-০৩১-৬৩৫৭৩০, ০১৭১২৫৮৫০৭১, কক্সবাজার-০১৮১৮২০৯৬২৭, ০১৭২০৫৫১৮৮২)। ইউনিক পরিবহন (ঢাকা-০২-৯০০২৭১০, কক্সবাজার- ০১৯১২৭৫৩২৮)। ঈগল পরিবহন (ঢাকা-০২-৮১২৮৪২৬, চট্টগ্রাম-০৩১-৭৫২২৯৯, কক্সবাজার-০১১৯৫৪৫১৯৫৯)। হানিফ এন্টারপ্রাইজ (ঢাকা-০২-৮১২৩৪৩৯, ০১৭১৩০৪৯৫৫৭, চট্টগ্রাম-০৩১-৬৩৮৩২২, কক্সবাজার- ০১৭১৩৪০২৬৩৭)। এসব বাসে ভাড়া ৪৫০-৬৫০ টাকা।
ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বিমানেও যেতে পারেন।

বিমান সংস্থাগুলো :
বাংলাদেশ বিমান (ঢাকা-০২-৯৫৬০১৫১-১০, চট্টগ্রাম-০৩৪১-৬৩৪৬১, কক্সবাজার-০৩৪১-৬৪০১৯)। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (ঢাকা-০২-৮৯৫৭৬৪০, চট্টগ্রাম-০৩৪১-০১৭১৩৪৮৬৬৫২, কক্সবাজার-০১৭১৩৪৮৬৬৫১)। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ (ঢাকা-০২-৮৯৫৩০০৩, চট্টগ্রাম-০৩১-২৫১৩৫৮১, কক্সবাজার-০১৭৩০৩৫৮৮১০)। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ঢাকা থেকে কক্সবাজারের এক পথের উড়াল মূল্য ৩২০০ টাকা থেকে শুরু।

টেকনাফ
কক্সবাজার থেকে সড়কপথে এ জায়গার দূরত্ব প্রায় ৮৫ কিলোমিটার। পাহাড়, নদী আর সমুদ্রের অনন্য এক মিলনস্থল হলো টেকনাফ।

কিভাবে যাবেন
কক্সবাজার থেকে বাস ও মাইক্রোবাসে টেকনাফ আসা যায়। বাসে ভাড়া ৮০-১২০ টাকা। মাইক্রোবাসে ১০০-১৫০ টাকা। কক্সবাজার থেকে টেকনাফের বাস ছাড়ে আন্তজিলা বাস টার্মিনাল থেকে আর মাইক্রোবাসগুলো শহরের কলাতলী এবং টেকনাফ বাইপাস মোড় থেকে। ঢাকা থেকেও সরাসরি টেকনাফ যায় সেন্ট মার্টিন সার্ভিস (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৮২৩০০৪৪৮৮), সিলভার লাইন পরিবহনের এসি বাস। ভাড়া ১১৫০-১২৫০ টাকা। ঢাকা থেকে শ্যামলী (০২-৭১৯৪২৯১), এস আলম, সৌদিয়া, হানিফ ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় টেকনাফ। ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ থেকে সাধারণত এ পথের বাসগুলো ছাড়ে। ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
টেকনাফে থাকার হোটেলে প্রতিরাতের জন্য ঘর পাওয়া যাবে ৩০০ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।
সেন্ট্রাল রিসোর্ট লিমিটেড : ফোন-০১৮৩৮৩৭৯৩৭২-৭৩। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল নে টং : যোগাযোগ ০৩৪২৬-৭৫১০৪, ০১৭১২৪৪৯৫৫৩, ০১৯৪২০৯৮২০০। হোটেল স্কাইভিউ : ০১৮১৯০৯৭৯১০। হোটেল হিলটপ ০১৭২৫২৭০৪৩৫। হোটেল সম্রাট ০১৭১৬৬৫৯৩৮৯।

পতেঙ্গা
চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ প্রান্তে সৈকতটির অবস্থান। শহর থেকে দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। এখানে দাঁড়িয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজ দেখা যায়। সন্ধ্যার পর সেগুলোকে মনে হয় সমুদ্রের মাঝে আলো ঝলমলে শহর।

কিভাবে যাবেন
প্রথমে যেতে হবে চট্টগ্রাম। সেখান থেকে পতেঙ্গার বেবি ট্যাক্সি ভাড়া ২০০-২৫০ টাকা। বাস কিংবা টেম্পোতে গেলে ভাড়া ৪০-৫০ টাকা। সৈকতের কাছেই থাকার জন্য মনোরম জায়গা বাটারফ্লাই পার্ক রেস্ট হাউস। ভাড়া চার হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। ফোন- ০১১৯৫০১০৫০০, ০১১৯৫০১০৬০১। তবে চট্টগ্রামের কোনো হোটেল থেকেও আসা যায়।

চট্টগ্রামে কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশপথে যাওয়া যায় চট্টগ্রাম শহরে। গ্রিনলাইন (০২-৭১০০৩০১), সোহাগ (০২-৯৩৪৪৪৭), সৌদিয়া (০১১৯৭০১৫৬১০), টি আর (০২-৮০৩১১৮৯), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১) ইত্যাদি পরিবহনের এসি বাস যায় চট্টগ্রামে। ভাড়া ৮৫০-১১০০ টাকা। আর এস আলম, সৌদিয়া, ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ, ঈগল প্রভৃতি পরিবহনের সাধারণ বাসে ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। রেলপথে ঢাকা-চট্টগ্রামের পথে মহানগর প্রভাতী ঢাকা ছাড়ে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে, চট্টলা এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ২০ মিনিটে, মহানগর গোধূলি ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৩টায়, সুবর্ণ এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়ে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে, তূর্ণা ঢাকা ছাড়ে রাত ১১টায়। ভাড়া ১৬০ থেকে ১১০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমান (০২-৯৫৬০১৫১-১০), জিএমজি এয়ারলাইনস (০২-৮৯২২২৪৮) ও ইউনাইটেড এয়ার (০২-৮৯৫৭৬৪০), রিজেন্ট এয়ারে (০২-৮৯৫৩০০৩) সরাসরি যাওয়া যায়। সিলেট থেকে সড়ক ও রেলপথে চট্টগ্রাম আসা যায়। সড়কপথে গ্রিনলাইন পরিবহনের এসি, নন এসি বাস যায় চট্টগ্রাম। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের শনিবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আন্তনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, সপ্তাহের রবিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস এবং সপ্তাহের প্রতিদিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মেইল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে। ভাড়া ১৭৫ থেকে ১২০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
হোটেল আগ্রাবাদ : ফোন-০৩১-৭১৩৩১১-৯, হোটেল পেনিনসুলা (পাঁচ তারকা), ফোন-০৩১-২৮৫০৮৬০, হোটেল পেনিনসুলা : ফোন +৮৮০৩১২৮৫০৮৬০। হোটেল মেরিডিয়ান, ফোন-০৩১-৬৫৪০০০-১, ৬৫২০৫০। হোটেল টাওয়ার ইন, ফোন-০৩১-৮৪২৬৯১-২। হোটেল এশিয়ান, ফোন-০৩১-৬৩৬৩৮৩, ৬৩৭৮৭২। হোটেল হারবার ভিউ, ফোন-০৩১-৬১৭৮৬৮, ৬১৫০৩৪, হোটেল সেন্ট মার্টিন, ফোন ০৩১-৭২৫৯৬১-২, হোটেল গোল্ডেন ইন, ফোন-০৩১-৬১১০০৪-১১।

কুয়াকাটা
এ সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোরই দৃশ্য দেখা যায়। ভালোভাবে সূর্যোদয় দেখা যায় সৈকতের গঙ্গামতির বাঁক থেকে আর সূর্যাস্ত দেখা যায় পশ্চিম সৈকত থেকে।

কিভাবে যাবেন
লঞ্চে কিংবা বাসে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে কুয়াকাটা। ঢাকার সদরঘাট থেকে বিআইডাব্লিউটিএর রকেট স্টিমার পিএস মাহমুদ, পিএস অস্ট্রিচ, পিএস লেপচা, পিএস শেলা ও পিএস টার্ন (০২-৯৫৫৯৭৭৯) যায় বরিশালে। ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাতে ছাড়ে এমভি সুন্দরবন (০১৭১৩০৩২০৮৯, ০১৭৮৬৬৪৭০০), এমভি সুরভী (০১৭১৩৪৫০১৪৫, ০১৭১১৩৩২০৩২), এমভি দ্বীপরাজ (০১৭২৭৭০০৭৭৭), এমভি কীর্তনখোলা (০১৭২৭৭০০৭৭৭), এমভি কালাম খান, এমভি পারাবাত (০১৭১১৩৩০৬৪২, ০১৭১১৩৪৪৭৪৭) ইত্যাদি। ভাড়া ২০০ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহন (০২৮০১৪৭০২), সুরভী পরিবহন, দ্রুতি পরিবহন (০২৯০০২৯৮৯), শ্যামলী পরিবহন (০২৯১৪১০৪৭), হানিফ এন্টারপ্রাইজ (০২৯১৩৫০১৮) ইত্যাদি বাস সরাসরি বরিশাল যায়। ভাড়া ৩৫০-৪৫০ টাকা। বরিশালের রূপাতলী বাস স্টেশন থেকে সকাল-সন্ধ্যা এক ঘণ্টার ব্যবধানে বাস যায় কুয়াকাটায়। ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা। ঢাকা থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী এসেও বাসে কুয়াকাটা আসা যায়। ঢাকার সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী রুটে চলাচল করে এমভি দ্বীপরাজ, সৈকত, সুন্দরবন, রেড সান ইত্যাদি লঞ্চ। ভাড়া ১৭৫ থেকে দুই হাজার টাকা। পটুয়াখালী বাস স্টেশন থেকে প্রতি ঘণ্টায় কুয়াকাটার বাস ছাড়ে। ভাড়া ৮০-১০০ টাকা। কমলাপুর বিআরটিসি বাস স্টেশন থেকে প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ছাড়ে সরকারি পরিবহন সংস্থার বাস। আর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে যায় সাকুরা পরিবহন (ঢাকা ০১১৯০৬৫৮৭৭২, কুয়াকাটা ০১৭২৬৫২৮৪৯০), সুরভী, দ্রুতি, মেঘনা, সৌদিয়া ইত্যাদি নন-এসি বাস। ভাড়া ৫৫০-৭৫০ টাকা। ঢাকা থেকে কুয়াকাটার বাসগুলো ছাড়ে রাত ৯টায় এবং কুয়াকাটা থেকে ঢাকার উদ্দেশে আসে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ থেকে ৭টা ৩০ মিনিটে।

কোথায় থাকবেন
প্রতি রাতে হোটেল ভাড়া দিতে হবে ২০০ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা পর্যন্ত। পর্যটন হলিডে হোমস : যোগাযোগ +৮৮-০৪৪২৮-৫৬০০৪। হোটেল বনানী প্যালেস : ০৪৪২৮৫৬০৪২, ০১৭১৩৬৭৪১৮৯, ০১৭১৩৬৭৪১৯২। হোটেল কুয়াকাটা ইন : ০৪৪২৮৫৬০৩১, ০১৭৫০০০৮১৭৭-৭৮, ০১৫৫৫০১২৫০০। হোটেল নীলাঞ্জনা : ০৪৪২৮৫৬০১৭-৮, ০১৭১২৯২৭৯০৪। হোটেল স্কাই প্যালেস : ০৪৪২৮৫৬০২৬-৭, ০১৭২৭৫০৭৪৭৯। হোটেল গোল্ডেন প্যালেস : ০৪৪২৮৫৬০০৫। হোটেল মোহনা ইন্টারন্যাশনাল : +৮৮০৪৪২৮৫৬১৭৫-৬, +৮৮০১৭৫০০৯৫৩৪০, ০১৭৫০০৯৫৩৩৩৮।
কুয়াকাটা গেস্ট হাউস : +৮৮-০৪৪২৮৫৬০২৪, ০১৭১৯৫৮৯৭৫২, ০১৭৩০১৮৯১৫২। হোটেল স্কাই প্যালেস : +৮৮-০৪৪২৮৫৬০২৬-৭, ০১৭২৭৫০৭৪৭৯, ০১৯১৫২২৯৯২৩। সাগরকন্যা রিসোর্ট লিমিটেড : +৮৮-০৪৪০৮৫৬০২০, ০১৭১১১৮১৭৯৮, ০১৭২১০৭৩৭৬৩। বিশ্বাস সি প্যালেস : +৮৮০১৭৩০০৯৩৩৫৬, ০১৭৩০০৯৩৩৬৩। কিংস হোটেল : +৮৮০১৭১৩২৭৭৬৩০, ০১৯৭১৫২০০৩৪। আনন্দবাড়ী গেস্ট হাউস : +৮৮০১৭১৬৯১৬১৭৩, ০১৭১১০০৬০২৬। বেঙ্গল গেস্ট হাউস : +৮৮০১৮১১৪৪৫১৩১, ০১৮১১৪৪৫০১০।
হোটেলে শৈবাল : +৮৮ ০৪৪২৮ ৫৬০৪৫, ০১৯২৯২৯১৭৮৫।
হোটেল ঘোষ : +৮৮০১১৯৮১৪৩৮৮৮, ০১১৯০৩১৩১৩২।
হোটেল সাগর : +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০৬৯, ০১৫৫৮৩৭৮১০৯।
হোটেল আল হেরা : +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০৫৪, ০১৭১২৪৯৪৮০৩, ০১৮১৪৭৩২৬৩১।
হোটেল সৈকত : ০১৯১৪৭২১৭১৬, ০১৭১৮৩১০৯৬৮।
হোটেল সি প্যালেস : +৮৮০১৭২৫২৫৯৫৬৬, ০১৭১৯০৮৪০২২।
হোটেল সি কুইন : +৮৮০১৭১৯০৮৫৩৫৬, ০১৭১৮২১৪৩৬১।
খেপুপাড়া ফ্যামিলি হাউস : +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০৮১-২, ০১৯২৩১৯৭৭৩৫।
হোটেল সান ফ্লাওয়ার : +৮৮০১৭৩৩৬১৮২৩৮, ০১৯২৭০৮৭৪৮।
হোটেল রাফি : +৮৮০১৭১৫১৫৪৯৬৪।

Monday, November 23, 2015

শ্রীমঙ্গল


শ্রীমঙ্গল দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। যে দিকে দু’চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সুনীল আকাশ, দিগন্ত জুড়ে বিশাল হাওর, সাজানো সবুজ চা বাগান আর সুউচ্চ সবুজ পাহাড়ি টিলার নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলীর দেশ শ্রীমঙ্গল। ‘শ্রী’ অর্থ সুন্দর এবং ‘মঙ্গল’ অর্থ শান্তি। সুন্দর ও শান্তির দেশ শ্রীমঙ্গল। শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের একটি উপজেলা হলেও অন্য উপজেলা থেকে যেন একটু অন্যরকম। শ্রীমঙ্গল যেন এক স্বপ্নময় স্বর্গের নাম। এ উপজেলাটি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট যেন স্বর্গোধ্যান। চা বাগান, ঘন জঙ্গল, উঁচু-নিঁচু টিলা, লেবু-পান-আনারস-রাবার বাগান, সুবিস্তৃত হাওর, লেক দিয়ে সাজানো অদ্ভুত সুন্দর এক উপজেলার নাম শ্রীমঙ্গল। সৃষ্টিকর্তা যেন অকৃপনভাবে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এ উপজেলাকে। দেশের শীত ও বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল হিসেবেও শ্রীমঙ্গল সুপরিচিত। শহরের কোলাহল ও কর্মব্যস্ত জীবন থেকে মুক্ত হয়ে একটু প্রশান্তি খুঁজছেন? একটুও চিন্তা না করে বেড়িয়ে পড়–ন শ্রীমঙ্গলের দিকে। যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা শ্রীমঙ্গলে আপনি কি কি দৃশ্য উপভোগ করবেন তার কিছু বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। লিখেছেন ইসমাইল মাহমুদ।

কি দেখবেন
চা বাগান
চা বাগান মানেই অপার্থিব মুগ্ধতা ছড়ানো এক অস্তিত্ব। চা বাগান মানেই সবুজের অবারিত সৌন্দর্য। চা বাগান মানেই আনন্দ, অ্যাডভেঞ্চার, রোমাঞ্চ। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় জেমস ফিনলে, ইস্পাহানী টি কোম্পানী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন মিলিয়ে ছোট-বড় ৩৮টি চা বাগান রয়েছে। শহর থেকে যে কোন সড়ক ধরে হাটাপথ দুরত্বে পৌছা মাত্র চোখে পড়বে মাইলের পর মাইল চা বাগান। চা বাগানের বেস্টনির মাঝে ছোট শহর শ্রীমঙ্গল। চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর মনে হবে কোন চিত্রশিল্পী মনের মাধুরী মিশিয়ে সবুজ-শ্যামল মাঠ তৈরী করে রেখেছে। চা বাগানের সবুজ বুক চিড়ে আঁকা-বাঁকা পথ ধরে কোন এক বিকেলে বৈকালিক ভ্রমণ করলে মনটা আনন্দের অতিসয্যে ভরে উঠবেই-উঠবে। ভাগ্য ভাল হলে মহিলা চা শ্রমিকদের চা পাতা উত্তোলনের মনোরম দৃশ্যও চোখে পড়বে। শহরের পাশেই ভাড়াউড়া, বুড়বুড়িয়া ইত্যাদি চা বাগানের অবস্থান। একটু দুরেই কাকিয়াছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, সিন্দুরখান, রাজঘাট চা বাগান অবস্থিত। সবুজের মেলা চা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অতি অবশ্যই বাগান কতৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। ইচ্ছে করলে কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব চা বাগানের চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় প্রবেশ করে কাচাঁ চা পাতা থেকে চা তৈরীর প্রক্রিয়াও দেখা যেতে পারে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
সারি সারি চা বাগানের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়ক ধরে ৯ কিলোমিটার পথ এগিয়ে যান। সেখানে রয়েছে আরেক বিস্ময়। দেশের সবচেয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত পাহাড় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ১ হাজার ২শ’ হেক্টর এলাকা জুড়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উঁচু-নিচুঁ টিলায় কয়েক হাজার প্রজাতির লক্ষ লক্ষ সুউচ্চ বৃক্ষ আপনাকে বিমোহিত করবে। এ জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করে একটু ভেতরের দিকে গেলেই দেখা যাবে বড় বড় বৃক্ষরাজির মগডালে উল্লুক, বানরসহ নানা প্রাণীর লাফালাফি। ঝিঁ-ঝিঁ পোকার মনোমুগ্ধকর ডাক শুনতে শুনতে বনের আরো গভীরে প্রবেশ করুন। ভাগ্য ভাল হলে সেখানেও আপনার জন্য রয়েছে বিস্ময়ের আলোকচ্ছটা। চোখে পড়তে পারে মেছোবাঘ, ভাল্লুক, হরিন, বিভিন্ন জাতের সাপ, বনমোরগ, বন বিড়াল, উল্লুক, বানর, খাটাস প্রভৃতি প্রাণী। এ বনে রয়েছে আড়াই হাজারের অধিক প্রজাতির পাখি, দশ প্রজাতির সরিসৃপ এবং বাঘ, ভাল্লুক, সিভিটকেট, বানর, হরিণসহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এ বনে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়ী ছড়া। বনের গভীরে বিভিন্ন পশুপাখির কিচির-মিচির ডাক ও ঝিঁ-ঝিঁ পোকার শব্দে আপনার মধ্যে কাজ করবে এক মোহনীয় অনুভূতি। পর্যটকরা বনের এ শব্দের নাম দিয়েছেন ‘ফরেষ্ট মিউজিক’। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের অভ্যন্তর দিয়ে সামান্য দুরত্বের মধ্যে ঢাকা-সিলেট রেলপথ এবং শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কপথ রয়েছে। এ দুটি পথ জাতীয় উদ্যানকে তিন ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। আমেরিকান দাতা সংস্থা ‘ইউএসএআইডি’ এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘আইপ্যাক’ নামের একটি সংস্থা এ বনটি রক্ষনাবেক্ষণ করছে। পর্যটকদের নিকট এ বনের আকর্ষন আরো বৃদ্ধি করার জন্য বনের সৌন্দর্য রক্ষা ও বৃদ্ধিকল্পে ‘আইপ্যাক’ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মাধবকুন্ড জল প্রপাত
দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডের অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার । বড়লেখা থানায় মাধবকুণ্ডের সুউচ্চ পাহাড় শৃঙ্গ থেকে শুভ্র জলরাশি অবিরাম গড়িয়ে পড়ছে। আর এই জলপ্রপাতের স্ফটিক জলরাশি দেখতে পুরো বছরই পর্যটকদের আনাগুনা পরিলক্ষিত হয় মাধবকুণ্ডে। সবুজে আবৃত আর পাহাড়ে ঘেরা এই জলপ্রপাতটি সিলেট বিভাগের মৌলভিবাজার জেলায় অবস্থিত। ঝর্নার শব্ধ আর পাখির কলতানই এখানে কেবল এখানে নিশব্ধতার ঘুম ভাঙ্গায়। প্রায় ৮৫ মিটার উচু হতে পাথরের খাড়া পাহাড় বেয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। নিচে বিছানো পাথেরের আঘাতে পানির জলকনা বাতাসে উড়ে উড়ে তৈরি করছে কুয়াশা। ঝিরি ঝিরি সে জলকনা চারিপাশের পরিবেশকে যেমন শীতল করে তেমনি সিক্ত করে প্রকৃতিকে।

পরিকুন্ড জল প্রপাত
আমরা কমবেশী সবাই মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের নাম শুনেছি। শুধু শুনেছি বললে ভূল হবে, যারা ভ্রমন করতে পছন্দ করেন তারা অন্তত একবার হলেও মাধবকুন্ড থেকে বেড়িয়ে এসেছেন। মাধবকুন্ড এবং এর আশেপাশের সৌন্দর্য বর্ননা করার প্রয়োজন নেই। চোখ ধাঁধানো সুন্দরের সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানি না যে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের খুব কাছেই লুকিয়ে আছে আর এক বিস্ময়, একটি বুনো ঝর্না- পরিকুন্ড জলপ্রপাত।

সবুজে আবৃত আর পাহাড়ে ঘেরা এই জলপ্রপাতটি সিলেট বিভাগের মৌলবিবাজার জেলায় অবস্থিত। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত হতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাটার পথ। তার পরেই পেয়ে যাবেন নিরবে নিভৃতে ঝরে পরা এই দৃষ্টিনন্দন ঝর্নাটি। তেমন কোন পর্যটক এখানে যায় না বলে ঝর্না এলাকাটি নিরবই থাক সারা বছর। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালায় আচ্ছাদিত হয়ে আছে ঝর্নার চারিপাশ, যেন সবুজের মেলা বসেছে এখানে। আর ঝর্নার ঝরে পড়ার শো শো শব্ধ সে মেলাকে দিয়ে ভিন্ন সুর। ঝর্নার শব্ধ আর পাখির কলতানই এখানে কেবল এখানে নিশব্ধতার ঘুম ভাঙ্গায়। প্রায় ১৫০ ফুট উচু হতে পাথরের খাড়া পাহাড় বেয়ে শোঁ শোঁ শব্দ করে জলধারা নিচে আছড়ে পড়ছে। নিচে বিছানো পাথেরের আঘাতে পানির জলকনা বাতাসে উড়ে উড়ে তৈরি করছে কুয়াশা।

আপনি চাইলে ঝর্নার স্বচ্ছ পানিতে দুহাত বাড়িয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারেন জলস্নানে। সে এক সুখজাগানিয়া অনুভুতি। মাধবকুন্ড হতে পরিকুন্ড আসার পথটা একটু পাথুরে ও জলময়। তবে ভয়ের কিছু নেই, কেবল পায়ের পাতাই ভিজবে। আপনাকে হাঁটতে হবে ছড়া বরাবর। পুরোটা ছড়া পাথর বিছানো। পাথরগুলো সবসময় ভিজে থাকে বলে বেশ পিচ্ছিল। তাই সাবধানে হাটতে হবে। যারা মাধবকুন্ড বেড়াতে যেতে চান তাদের জন্য এটি একটি বাড়তি পাওয়া। খুব অল্প বিস্তর লোক এখানে ঘুরতে যায়। আপনিও হতে পারেন তাদের একজন।

মাধবপুর লেক
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে পাত্রখলা চা বাগানে লেকটির অবস্থান। এটি মৌলভীবাজার থেকে ৪০ কিঃমিঃ দক্ষিনে ও শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ কিঃমিঃ পুর্বে অবস্থিত। খানাখন্দে ভরা চা বাগানের রাস্তা দিয়ে এ লেকে যেতে হয়।মাধবপুর লেক চারদিকে পাহাড় দিয়ে ঘেরা, amoeboid shape এর অতীব সুন্দর এক লেক। লেক টা অনেক বড়। পুরো লেক টার ছবি এক ফ্রেমে আসে না। অ্যামিবার মত চারিদিকে ছড়িয়ে আছে এই লেক। পাহাড়ের উপর থেকে লেক টাকে অপূর্ব লাগে। এই উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় চা বাগানের ফ্যাক্টরী টাও এখানে দেখে নিতে পারবেন।

হাইল হাওর
শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী হাইল হাওর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র ও জীবন জীবিকার বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ন জলাভূমি। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন যথা-কালাপুর, শ্রীমঙ্গল, ভূনবীর ও মির্জাপুর নিয়ে বিস্তৃত এ হাওরের চার পাশে গ্রাম রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। ৫ থেকে ৬ হাজার অতি দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার হাওরে মাছ ধরে নির্বাহ করে থাকেন তাদের জীবিকা। তাছাড়াও হাইল হাওর দেশী বিদেশী নানা প্রজাতির পাখি, শামুক, ঝিনুক, ফোকল, ঘাস, শাপলা, শালুক, উকল, হিজল-করচ গাছ ইত্যাদি এবং অন্যান্য বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস স্থল।

হাইল হাওরের এ প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ তথা এই জলাভূমির উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিদের নিয়ে মাচ্ প্রকল্পের সহায়তায় সংগঠিত হয়েছে জলাভূমি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংগঠন (আরএমও)। এই সংগঠন হাইল হাওরের মৎস্য সম্পদের উৎপাদন ও বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র রক্ষা করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে আসছে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে- হাওরে বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ গইন্না, কালিবাউস, চিতল, গুলশা, আইর, দেশীয় স্বরপুটি, পাবদা, রুই ইত্যাদি অবমুক্তকরণ। এছাড়া হাওরে বিপুল পরিমাণ জলজ গাছ রোপন করা হয়েছে। সেখানে তৈরী হয়েছে বন্যপ্রাণী ও পাখির আবাসস্থল। বর্ষা মৌসুমে হাইল হাওরের সুনীল জলরাশি চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। শুধু পানি আর পানি। হাইল হাওরের পানির প্রধান উৎস গোপলা নদী। (উজানে বিলাসছড়া থেকে উৎপত্তি লাভ করে হাইল হাওরকে দ্বিখন্ডিত করে গোপলা নদী ভাটিতে বিজনা নদীর মাধ্যমে মেঘনার উধাংশের সাথে মিলিত হয়েছে)। হাইল হাওরে গেলে আপনি এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। নৌকা ভ্রমনের উৎকৃষ্ট স্থান হাইল হাওর। ভোরে ঘুমন্ত হাইল হাওর যেন জেগে উঠে। হাওরের চারপাশে হাজার হাজার মৎস্যজীবির মাছ আহনরনের দৃশ্য অত্যন্ত মোহনীয়। বিকেলের হাইল হাওর থাকে যেন পাখিদের দখলে। সন্ধ্যায় হাইল হাওরে ভ্রমন করলে মনে হবে সারা রাত কাটিয়ে দেই পাখিদের এ রাজ্যে।

বিটিআরআই
বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই) পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান। দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে এ প্রতিষ্ঠানটি। বিটিআরআই কমপ্লেক্স-এর সামনে অপরূপ ফুলকুঞ্জ, শত বছরের চা গাছ, চা পরীক্ষাগার, চারদিকে চা বাগান, চা নার্সারী, চা ফ্যাক্টরী, অফিসার্স ক্লাব ভবনের পেছনে অবস্থিত চোখ ধাঁধানো লেক, অ্যারাবিয়ান ও রোবাস্টা কফি গাছ, নানা জাতের অর্কিডসহ ভেষজ বাগান আপনার মনকে চাঙ্গা করবেই। ১৯৫৭ সালে স্থাপিত বিটিআরআই-এর স্থাপত্যগুলো অনেকটাই পশ্চিমারীতির পরিচয় বহন করে। কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে আপনি ঘুরে দেখতে পারেন বিটিআরআই’র পুরো ক্যাম্পাস। প্রতিদিন বিকেলে ও সরকারি ছুটির দিনে পর্যটকদের ঢল নামে বিটিআরআই-তে।

বাইক্কা বিল
শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী সুবিশাল হাইল হাওরের ‘বাইক্কা বিল’ না দেখলে শ্রীমঙ্গলের কিছুই যেন দেখা হলো না। বর্তমান হাইল হাওরের প্রাণ বাইক্কা বিল। ‘ইউএসএআইডি’ এর অর্থায়নে মাচ্ প্রকল্পের মাধ্যমে বাইক্কা বিলে গড়ে তোলা হয়েছে মৎস্য ও পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রম। বর্তমানে বাইক্কা বিলটি রক্ষনাবেক্ষণ করছে সমন্বিত রক্ষিত এলাকা সহ-ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (আইপ্যাক)। বাইক্কা বিলে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলায় দেশের বিলুপ্তপ্রায় রুই, গইন্না, কালিবাউস, দেশী সরপুটি, পাবদা, আইড়, গুলশা, চিতলসহ ১৫/২০ প্রজাতির মাছ বর্তমানে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যাচ্ছে। আগে শুধুমাত্র শীতকালে হাইল হাওরে পাখি দেখা যেত। কিন্তু পাখির স্থায়ী অভয়াশ্রম হবার কারনে পুরো বছরই পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে বাইক্কা বিল। পর্যটকদের সুবিধার্থে পাখি দেখার জন্য বাইক্কা বিলে পানির উপরে তৈরী করা হয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। দেশের একমাত্র এ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে শক্তিশালী দূরবিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পাখি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাইক্কা বিলে পাওয়া যায় সুস্বাধু মাখনা, শালুকসহ নানা স্বাদের, নানা বর্ণের জলজ ফল। বিলের পানিতে ফুটে থাকা পদ্ম, শাপলা প্রভৃতি জলজ ফুল আপনার তনোমনে নাড়া দেবে। প্রচন্ড গরমের সময় পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের উপরে বসলে হিমশীতল পানি বাহিত আওলা বাতাস আপনার শরীরে ঠান্ডার কাঁপন তুলবে মুহুর্তেই। ইচ্ছে করলে আপনি স্বল্পমূল্যে বিলে নৌকাভ্রমন করতে পারেন। বাইক্কা বিলে যেতে হলে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়ক ধরে কালাপুর বাজার থেকে একটু সামনে এগুলেই বরুনা-হাজীপুর পাকা রাস্তার দেখা মিলবে। এ রাস্তায় প্রবেশ করে যেতে হবে হাজীপুর বাজারে। স্থানীয়দের কাছে এ বাজারটি ঘাটেরবাজার নামে পরিচিত। সেখান থেকে মোটর সাইকেলে বা পায়ে হেটে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত বাইক্কা বিল। হাজীপুর বাজারে বেশ ক’জন গাইড রয়েছে। আপনি চাইলে গাইডের সাহায্যও নিতে পারেন। গাইড আপনাকে পুরো বাইক্কা বিল দেখতে সাহায্য করবে।

ভাড়াউড়া লেক
শ্রীমঙ্গলকে সবুজ চাদরে ঢেকে রেখেছে উপজেলার চা বাগানগুলো। এসব চা বাগানের নান্দনিক সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে কোন কোন চা বাগানের বুক চিড়ে চলে যাওয়া ছড়া ও হ্রদগুলো। তেমনি এক আকুল করা স্থান হচ্ছে ভাড়াউড়া লেক। অবসর সময়গুলো ভালোলাগার অনুভূতিকে পূর্ণ করার এক উত্তম স্থান। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত চারদিকে চা বাগানে ঘেরা এ লেকটি আপনার হৃদয় মনে দোলা দেবে নিঃসন্দেহে। কাঁচা চা পাতার আকুল করা গন্ধ নিয়ে লেকের পাড়ে টিলার উপর দাড়ালে বা লেকের স্বচ্ছ পানিতে নামলে আপনার মনকে করবে মোহবিষ্ট। লেকের পানিতে ফুটে থাকা নানা জাতের ফুল দেখলে মনে হবে যেন অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে লেকটি। লেকের স্বচ্ছ পানিতে টিলার উপর অবস্থিত চা বাগানের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। লেকের পাড়ে গাছে-গাছে রয়েছে অসংখ্য বানরের দল। আপনাকে দেখা মাত্র হয়তো বানরেরা দলবেধে আপনাকে ভেংচি কাটতে থাকবে। আপনি লেকের দিকে যত এগুবেন বানরের দল তত পেছোবে। খেয়াল রাখতে হবে আপনার দ্বারা যেন বানরের উত্তেজিত হবার কোন ঘটনা না ঘটে। বানরেরা উত্তেজিত হলে আপনার উপর আক্রমন করে বসতে পারে। সন্ধ্যা হবার পূর্বেই ভাড়াউড়া লেক এলাকা থেকে আপনাকে ফিরে আসতে হবে শহরের দিকে।

রাজঘাট লেক
জেমস ফিনলে টি কোম্পানীর রাজঘাট চা বাগানের অফিস সংলগ্ন ব্রিজ পেরিয়ে উদনাছড়া-বিদ্যাবিল চা বাগানের পথে একটু সামনে এগুলেই হাতের বাম পাশে চোখে পড়বে রাজঘাট লেক। লেকে ফুটে থাকা পদ্ম আর শাপলা ফুল গুলোর দিকে তাকালে আপনার মন ভালোলাগার মিষ্টি অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হবে। তিনদিকে চা বাগান ও একদিকে সুইমিংপুলের মাঝখানে অবস্থিত রাজঘাট লেকে যাওয়া যায় সিন্দুরখান ও কালীঘাট দু’বাগানের সড়ক দিয়েই। লেকের পানিতে বিকেলে অতিথি পাখিদের স্নান করার দৃশ্য অত্যন্ত মোহনীয়। শহর থেকে বেশ দুরে রাজঘাট লেক অবস্থিত বিধায় সন্ধ্যার পূর্বেই এ লেক এলাকা ত্যাগ করে শহরের দিকে রওয়ানা হওয়াই ভাল।

সাতগাঁও লেক
শ্রীমঙ্গল শহর থেকে হবিগঞ্জ সড়ক ধরে লছনা বাজারকে পেছনে ফেলে সামান্য এগুলেই সাতগাঁও চা বাগান। বাগানের চা ফ্যাক্টরি ও ব্যবস্থাপক বাংলোর মাঝখানে অত্যন্ত আকর্ষনীয় এ লেকটির অবস্থান। লেকটির অপর দু’পাড়ে রয়েছে রাস্তা ও ফুলের বাগান এবং চা বাগানের সারি। লেকটির একপাশে পানির উপরে ভাসমান দুটি কাঠের মাচাং লেকটির আকর্ষন অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। লেকটি চা ফ্যাক্টরী ও ব্যবস্থাপক বাংলোর মাঝখানে অবস্থিত বিধায় লেকটি দেখতে হলে আগে থেকেই বাগান কতৃপক্ষের অনুমতি নেয়া আবশ্যক। নতুবা লেকটি দেখার সাধ অপূর্ণই থেকে যাবে। ক্লান্ত শরীরে লেকটির কাঠের মাচাং-এ বসে একটু বিশ্রাম নিলে চাঙ্গা হয়ে উঠবে আপনার মনোপ্রাণ। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে অবস্থিত লেকটি। প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে যেতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

হরিণছড়া লেক
হৃদয় হরণ করা একটি স্থান হরিণছড়া চা বাগান লেক। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে কাকিয়াছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট, লাখাইছড়া, খেজুরীছড়া, পুটিয়াছড়া চা বাগান পেছনে ফেলে সবুজের অবারিত পথ দিয়ে প্রায় ২২ কিলোমিটার দুরে গেলেই পৌছে যাবেন হরিণছড়া চা বাগানে। বাগানের ১নং সেকশনে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যপটের চমৎকার এ লেকটি অবস্থিত। পাইন গাছেন সারির খুব কাছেই অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ছোট লেকটিকে চা শ্রমিকরা বাঁধ বলে চেনে। কোন শ্রমিকের কাছে লেক কোথায় জানতে চাইলে কেউই দেখিয়ে দিতে পারবে না। পাইন বাগানের ভেতর দিয়ে এ লেকে পৌছার পর আপনার মনে হবে এখানেই কাটিয়ে দেই জীবনের বাকি সময়টুকু। সময় থাকলে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি এ বাগানেরই শেষ প্রান্তে অবস্থিত বড় লেকটিও দেখে আসতে পারেন। বড় লেকটি আকারে বেশ লম্বা। আঁকা-বাঁকা এ লেকটির উভয় পাড়ে রয়েছে সবুজ চা বাগান। স্বচ্ছ টলটলে পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ ও শাপলা-শালুকে পরিপূর্ণ লেকটির পাড়ে বসে চা বাগানসহ লেকটির ছবি তুলে নিয়ে আসতে পারেন।

সিতেশ দেবের মিনি চিড়িয়াখানা
সিতেশ রঞ্জন দেব। প্রায় ৬৭ বছর বয়স্ক সাম্য ভদ্রলোক এক সময়ের দূুদর্ষ শিকারী সিতেশ রঞ্জন দেব সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন মিনি চিড়িয়াখানা। তাঁর মিশন রোডস্থ বাসভবনে ১৯৭২ সালে শুরু করা চিড়িয়াখানাটি বর্তমানে স্থানান্তর করে শহরতলীর ভাড়াউড়া এলাকায় অবস্থিত নিজ খামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিতেশ বাবুর এ মিনি চিড়িয়াখানাটিতে রয়েছে দূর্লভ ও বিলুপ্তপ্রায় কিছু প্রাণী। বর্তমানে ভাল্লুক, পাহাড়ি ময়না, গন্ধগকোল, হরিয়াল, লক্ষণ টিয়া, ধনেশ, গুইসাপ, উরুক্কু কাঠবিড়ালি, বিরল প্রজাতির সাদা আলবিনো বাঘ, মেছো বাঘ, গোল্ডেন টারটইল বা সোনালী কচ্ছপ, সোনালী বাঘ, লজ্জাবতী বানর, সাইবেরিয়ান লেজ্জা লামবার্ড, ঘুঘু, বানর, বন্যমথুরা, বন্যমোরগ, সরালী, কালেম, ময়না, বন্যমাছ, অজগর সাপ, মেলর্ড, তিতির, মায়া হরিণ, সজারু, ইন্ডিয়ান সোনালী বানর, বন্যখরগোস, সাদা খরগোস প্রভৃতি প্রাণী রয়েছে তাঁর চিড়িয়াখানায়। সোনালী কচ্ছপের বৈশিষ্ট্য হলো-এরা গাছে বসবাস করে। ভূলেও কখনো পানিতে নামে না। সব সময় শুকনো খাবার খায়। লজ্জাবতী বানরের বৈশিষ্ট্য হলো-এরা দিনের বেলা মাথা নিচু করে, চোখ বন্ধ করে বসে থাকে। দিনে কোন খাবার খায় না। রাতের আধাঁরে স্বাভাবিক চলাফেরা করে এবং খাবার গ্রহন করে। এটি একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী। সোনালী বাঘ একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী। এরা গভীর জঙ্গলে বসবাস করে। আকারে ছোট এ বাঘ অত্যন্ত হিংস্র। সাদা বাঘ দেশের আর কোন চিড়িয়াখানায় নেই। এটি একটি দূর্লভ প্রাণী। আপনি সিতেশ বাবুর চিড়িয়াখানায় গিয়ে এসব প্রাণী দেখে আসতে পারেন। আপনার অভিজ্ঞতার ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে প্রাণীগুলোর বৈশিষ্ট্য জেনে নিতে পারেন সদা হাস্যোজ্জল সিতেশ রঞ্জন দেবের কাছ থেকে।

খাসিয়া পান পুঞ্জি
সিলেট বিভাগে ৭৫টি খাসিয়া পান পুঞ্জি রয়েছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলে পান পুঞ্জির সংখ্যা দশ। উপজাতি খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় এসে সুউচ্চ পাহাড়ি টিলা পরিস্কার করে বসবাসের উপযোগি ঘর তৈরী ও পান চাষে আত্মনিয়োগ করে। এসব পান চাষের এলাকাকে পুঞ্জি বলে। প্রতিটি পান পুঞ্জিতে ২৫/৩০টি পরিবার গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বসবাস করে। খাসিয়ারা পাহাড়ি পতিত ভূমিতে সুউচ্চ গাছের পাশে লতানো পানের চারা রোপন করে। রোপনকৃত এ চারা অল্পদিনেই বড় গাছ বেয়ে উঠতে থাকে উপরের দিকে। বড় গাছ পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে লতানো পান গাছকে এ দৃশ্য অত্যন্ত নয়নাভিরাম। টিলার পর টিলা সুউচ্চ গাছগুলো সবুজ পান পাতায় ঢাকা পড়ে আছে। খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুরুষরা বাঁশের তৈরি এক প্রকার মই ব্যবহার করে সুউচ্চ গাছ থেকে পান সংগ্রহ করে। সে পান খাসিয়া নারীরা গুছিয়ে খাচায় ভরে রাখে। খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবন জীবিকা সম্পর্কে ধারনা পেতে এবং পান পুঞ্জির পান চাষ সম্পর্কে জানতে চান? চলে আসুন নাহার, নিরালা, চলিতাছড়া, লাউয়াছড়া প্রভৃতি পান পুঞ্জিতে। এসব পুঞ্জিতে প্রতিদিনই সকাল-বিকেল পান ক্রেতাদের জীপ গাড়ি যাতায়াত করে। আপনি ভাড়া পরিশোধ সাপেক্ষে যে কোন পুঞ্জি ভ্রমনে যেতে পারবেন।

পাহাড়ি টিলা
‘পাহাড়ি টিলা হাতছানি দিয়ে ডাকে-আয়, আয় আমার মায়াময় কোলে বসে একটুখানি জিরিয়ে যা’। পাহাড়ি টিলার এই আহ্বান, এই দুরন্ত-দুর্বার টান কোন মানুষের পক্ষে উপেক্ষা করা অসম্ভব। তাইতো মানুষ ছুটে আসে পাহাড় এবং টিলার কাছে। শ্রীমঙ্গলে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়ি টিলা। তবে আকাশ ছোয়া সবুজের মেলা দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে বার্ণিশ টিলায়। বালিশিরা চা বাগানে অবস্থিত এ টিলার নাম শুনলেই যে অজানাকে জানার এক শিহরন উঠে মনের মধ্যে। সারি সারি চা বাগানের মাঝে এ টিলা নিচ থেকে দেখলে মনে হবে টিলাটি যেন আকাশ ছুয়েছে। বার্ণিশ টিলায় যেতে হলে আপনাকে শহর থেকে গাড়ি নিয়ে কাকিয়াছড়া, ফুলছড়া, কালীঘাট চা বাগান পেরিয়ে পৌছতে হবে ফিনলে টি কোম্পাণীর প্রধান কার্যালয় ‘ফিনলে হাউস’-এ। ফিনলে হাউস-এর পাশ দিয়ে সামান্য এগুলেই পাওয়া যাবে ফিনলে রাবার ফ্যাক্টরি। রাবার ফ্যাক্টরি পেছনে ফেলে আরো সামনে এগিয়ে যান। চা বাগানের বর্ণিল জগতে প্রবেশ করুন আবারো। চা বাগানের সড়ক ধরে ৩/৪ মিনিট হাটার পর তাকান ডান দিকে। চোখ পড়বে সুউচ্চ বার্ণিশ টিলায়। ইচ্ছে করলে অতি সাবধানে উঠতে পারেন টিলার চুড়ায়। যদিও অনেক কষ্ট ও সময় ব্যায় হবে এতে। যদি কষ্ট সহ্য করে টিলার চুড়ায় আরোহন করতে পারেন তবে আপনার কাছে মনে হবে হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছেন। চুড়ায় দাড়িয়ে তাকান চার পাশে। মনে হবে উড়োজাহাজে চড়ে দেখছেন শ্রীমঙ্গলকে। শ্রীমঙ্গল শহরের দিক থেকে ‘ইউ-টার্ণ’ ঘুরে দাড়ান। কি দেখছেন? ভেবে পাচ্ছেন না নিশ্চয়ই। তাহলে আমিই জানিয়ে দিচ্ছি-এটি হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।

ওয়্যার সিমেট্রি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও তৎপরবর্তী সময়ে যে সব ব্রিটিশ নাগরিক তথা চা বাগান ব্যবস্থাপনা কতৃপক্ষ মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের কবর (ওয়্যার সিমেট্রি) অত্যন্ত আকর্ষনীয় এক স্থান। চা বাগানের মাঝে-পাখির কল কাকলিতে ভরা, চারিদিকে দেয়াল ঘেরা ওয়্যার সিমেট্রির অবস্থান খেজুরীছড়া চা বাগানে। শত-শত ব্রিটিশ নাগরিকের কবরের শিয়রে মৃতের পরিচিতি ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। ওয়্যার সিমেট্রি দেখতে চাইলে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে গাড়িযোগে চলে যান খেজুরীছড়া চা বাগানের ফ্যাক্টরির সামনে। সেখান থেকে ডানদিকে রাজঘাট চা বাগানের রাস্তায় সামান্য এগুলেই ডান পাশে চোখে পড়বে ওয়্যার সিমেট্রিটি। প্রতিদিন অসংখ্য বিদেশী পর্যটক এখানে এসে প্রার্থনা করে যান।

মনিপুরী পাড়া
সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাব, কাচামালের দুস্প্রাপ্যতা ইত্যাদি নানাবিদ কারনে মনিপুরী তাঁত শিল্প অনেকটা ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলেও অনেক সৌখিন নারী এখনো মনিপুরী তাঁতের শাড়ি পরিধান করার জন্য ব্যকুল। মনিপুরী তাঁত শিল্পের আগের সেই রমরমা অবস্থা না থাকলে শ্রীমঙ্গল রামনগর মনিপুরী পাড়ায় এখনো ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রয়াসে বেশ কটি তাঁতে তৈরী হচ্ছে শাড়ি, ত্রি-পিস, ওড়না, ব্যাগসহ নানা ধরনের পণ্য। তাঁত শিল্প সম্পর্কে জানতে এবং তাঁতে কাপড় বুনার প্রক্রিয়া দেখতে চাইলে চলে আসুন শ্রীমঙ্গলের রামনগর মনিপুরী পাড়ায়। মনিপুরীদের আতিথেয়তা গ্রহন করতে শ্রীমঙ্গল শহর থেকে রিকসা বা অন্যান্য যে কোন বাহন যোগে সহজেই আসতে পারেন মনিপুরী পাড়াতে। তবে বাংলা সনের কার্তিক মাসের শেষ পূর্ণিমা তিথিতে মনিপুরীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘রাসোৎসব’ দেখতে চাইলে যেতে পারেন কমলগঞ্জের মাধবপুরস্থ জোড়ামন্ডপ অথবা আদমপুরস্থ মনিপুরী শিক্ষা ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে। দু’স্থানই প্রতি বছর ‘রাসোৎসব’-এ লক্ষ লক্ষ মানুষের পদভারে মুখরিত হয়।

লালমাটি পাহাড়
শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কে ‘টি রিসোর্ট’ কে বামে ফেলে ডানে চা বাগানের মেঠো পথ ধরে সামনে এগুলেই পাওয়া যাবে লালমাটি পাহাড়। পাহাড়ের মাটি রক্তবর্ণের। পাহাড়ের প্রায় দুইশত ফুট নিচ দিয়ে বয়ে গেছে স্্েরাতস্বিনী পাহাড়ি ছড়া ‘বুড়বুড়িয়া’। ছড়ার পানির স্রোতে পাহাড়ের নিম্নাংশ ভাঙ্গনের ফলে পাহাড়টি একেবারে খাড়া রূপ লাভ করেছে। ছড়ার পানিতে নেমে সোজা পাহাড়ের দিকে তাকালে মনের মধ্যে ভয় ভয় অনুভূতি কাজ করে। পাহাড়ের উপরে উঠলে নিচের বুড়বুড়িয়া ছড়াকে ছোট একটি খাল মনে হবে। লালমাটি পাহাড়াঞ্চলে ছড়ার পানিতে প্রাকৃতিকভাবে কিছু পাথুরে বাঁধ তৈরী হয়েছে। এসব বাঁধ ডিঙ্গিয়ে ছড়ার পানি বয়ে যাবার দৃশ্য খুবই অপরূপ। একটির পর একটি পাথুরে বাঁধে পানি আছড়ে পড়ে বিকট শব্দ তৈরী হচ্ছে। পানির এ শব্দটি শোনা যায় অনেক দুর থেকেই। আপনি শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের টি রিসোর্ট এলাকায় এসে ডানে চা বাগানের আঁকা-বাঁকা ছোট মেঠো পথে নেমে একটু সামনে এগুলেই পানির শব্দ শুনতে পাবেন। অতপর শব্দ লক্ষ্য করে হেটে চলে যান লালমাটি পাহাড়ে।

রাবার বাগান
বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বশিউক) রাবার বিভাগ সিলেট জোন শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। এ বিভাগের অধিনে রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মোট ৪টি রাবার বাগান। এর মধ্যে সাতগাঁও রাবার বাগান শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত। বাকি বাগানগুলোর মধ্যে ভাটেরা রাবার বাগান কুলাউড়া উপজেলায়, রূপাইছড়া রাবার বাগান বাহুবল উপজেলায় এবং শাহজিবাজার রাবার বাগান হবিগঞ্জে অবস্থিত। শ্রীমঙ্গলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সাতগাঁও রাবার বাগান ছাড়াও জেমস ফিনলে টি কোম্পাণী ও ডানকান ব্রাদার্স এর প্রায় প্রতিটি চা বাগানে রাবার চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তি মালিকাধীন অসংখ্য রাবার বাগান রয়েছে শ্রীমঙ্গলে। শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার সড়কের ভৈরববাজার নামক স্থানে রাস্তার খুব কাছেই অবস্থিত মাইজডিহী রাবার বাগান দেখলে নয়ন জুড়িয়ে যায়। আপনি ইচ্ছে করলে যে কোন একটি রাবার বাগান ঘুরে দেখতে পারেন। খুব সকালে রাবার বাগানে গেলে টেপার (রাবার শ্রমিক) কতৃক রাবার কষ আহরন পদ্ধতি, রাবার তৈরি প্রক্রিয়া দেখা সম্ভব। এছাড়া রাবার বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন-মান সম্পর্কে অবগত হওয়া যাবে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত রাবার গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে বেড়ালে রাবার বীজের রিমঝিম শব্দে হৃদয় ভরে উঠবে।

আনারস বাগান
শ্রীমঙ্গলে দেশের সবচেয়ে বেশি আনারস উৎপন্ন হয়। চায়ের পাশাপাশি শম্মঙ্গলকে আনারসের রাজধানীও বলা চলে। শ্রীমঙ্গলের আনারস দেশ জুরে সুপসিদ্ধ। স্বাদে-গন্ধে এ আনারস অতুলনীয়। শ্রীমঙ্গলে ভ্রমনে আসবেন আর আনারস বাগানে যাবেন না তা কি হয়? শ্রীমঙ্গল শহর গাড়ি অথবা মোটরসাইকেলে চড়ে চলে আসুন মোহাজেরাবাদ, বিষামনি, পিচের মুখ অথবা সাতগাঁও পাহাড়ে। ঈদের ছুটিতে আনারস বাগান এলাকায় পৌছার সাথে সাথে আপনার নামে লাগবে পাকা আনারসের সুমিষ্ট গন্ধ। ভোরে এসব এলাকায় গেলে দেখতে পাবেন শত শত শ্রমিক বাগানের টাটকা আনারস পেড়ে ঠেলাগাড়িতে করে পাঠিয়ে দিচ্ছে শহরে। যা কয়েক হাত বিক্রি হয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। পাহাড়ি টিলায় থরে থরে সাজানো আনারসের গাছ আপনাকে পুলকিত করবে। ছবির মতো সাজানো প্রতিটি আনারস বাগান আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছে আনারসের রাজ্যে।

কিভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বাস অথবা আন্তঃনগর ট্রেনে শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অনেক বাস পাবেন (হানিফ, শ্যামলী, ইউনিক ইত্যাদি)। ভাড়া ৪৫০-৫০০/-

কখন যাবেন
সাধারণত শীতকাল হল পর্যটন মৌসুম। যত বেশী শীত শ্রীমঙ্গল ভ্রমন তত আনন্দদায়ক। আর শ্রীমঙ্গলের বৃষ্টি উপভোগ করতে হলে চলে যান বর্শাকালে।

কোথায় থাকবেন
শ্রীমঙ্গলে থাকার জন্য বেশ কিছু দারুন কটেজ, রিসোর্ট গড়ে উঠেছে যা অন্য এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়না। নীচে সেগুলোর কিছু বর্ননা দেয়া হলো :

রিসোর্ট
শান্তি বাড়ি, রাধানগর : আমার মতে শ্রীমঙ্গলে থাকার শ্রেষ্ঠ জায়গা এটি। শহর থেকে ৫ কি:মি: দুরে রাধানগরের গ্রামীন পরিবেশে গড়ে উঠেছে অসাধারন সুন্দর এই ইকো কটেজ। এখানে মোট ঘর আছে দুটি। একটি কাঠের তৈরী দ্বিতল ঘরে রুম আছে ৪ টি। প্রতি রুমে থাকতে পারবেন ৩ জন, ভাড়া ৩০০০ টাকা। আর বাশের কটেজে রুম আছে ২ টি। থাকা যাবে দুজন করে, ভাড়া ২০০০।

যোগাযোগ : ০১৭১৬-১৮৯২৮৮ (লিংকন)

নিসর্গ ইকো কটেজ, রাধানগর : বিদেশী অর্থায়নে বাংলাদেশর সরকারের বন রক্ষার বিশেষ প্রকল্প নিসর্গ এর নির্দেশনার আলোকে গড়ে উঠেছে এ ইকো কটেজ। এখানে লিচুবাড়ি এবং রাধানগড় এ দুজায়গায় মোট কটেজ আছে ৭ টি। প্রতিটিতে ২ জন থেকে শুরু করে ৪ জন থাকা যায়। ভাড়া ১৭০০ টাকা থেকে শুরু।

যোগাযোগ : ০১৭১-৫০৪১২০৭ (জনাব শামসু)

হারমিটেজ, রাধানগর : রাধানগর গাছপালা ঘেরা একটি খালের ঠিক ওপরেই চাৎকার এ গেষ্ট হাউজটির অবস্থান। এখানে থাকলে পানি প্রবাহের শব্দ শোনা যায় রাতের বেলা। এদের একটি লাইব্রেরীও আছে ঠিক খালের পাড় এ। মুল বভনে রুম আছে ৪ টি ভাড়া ৫০০০, ৪৫০০ এবং ৩৫০০ করে। থাকা যাবে ২-৩ জন প্রতি রুমে। এছাড়া রয়েছে ৩ রুমের কটেজ প্রতিটির ভাড়া ৩০০০ টাকা করে।

যোগাযোগ : ০১৯৩-২৮৩১৬৫৩ (ফারুক)

টি রিসোর্ট, ভানুগাছ রোড : শ্রীমঙ্গলে থাকার অন্যতম সেরা জায়গা এটি। বাংলাদেশ টি বোর্ড পরিচালিত এ রিসোর্ট এ অনেকগুলো কটেজ রয়েছে। দুই রুমের একটি কটেজের ভাড়া ৫১৭৫ টাকা। ২ জন থাকার মতো ১ রুমের কটেজের ভাড়া ২৮৭৫ টাকা।

যোগাযোগ : ০১৭১-২৯১৬০০১ (অরুন)

গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট, রাধানগর : শ্রীমঙ্গলের একমাত্র ফাইভ ষ্টার রিসোর্ট।

বুকিং : ৯৮৭৯ ১১৬১


বাজেট হোটেল
এছাড়া আরেকটু কম খরচে (৫০০-১৫০০ টকা) যদি থাকতে চান তবে থাকতে হবে শহরের মধ্যের হোটেলগুলোতে। এমন কয়েকটি হোটেলের নম্বর দেয়া হলো :

- হোটেল টি টাউন : ০১৭১৮-৩১৬২০২

- হোটেল প্লাজা : ০১৭১১-৩৯০০৩৯

- হোটেল ইউনাইটেড : ০১৭২৩-০৩৩৬৯৫

চা জাদুকরের সাতস্তরের চা
পুরো শ্রীমঙ্গলের মনোমুগ্ধকর সব স্থান দেখতে দেখতে আপনি কি ক্লান্ত? আপনার সব ক্লান্তি এক নিমিষেই দূর করতে চান? ভাবনা নেই-শ্রীমঙ্গলে আছে চা জাদুকর রমেশ রামগৌড়। কি নামটি খুব চেনা চেনা লাগছে? লাগারইতো কথা। কারণ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রমেশের অভিনব চা আবিস্কারের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছে ইংল্যান্ড, আমেরিকা থেকে শুরু করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। দেশ-বিদেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা রমেশকে নিয়ে তৈরি করেছে বিশাল বিশাল প্রতিবেদন। রমেশ ২০০০ সালে কাকিয়াছড়া চা বাগানের বাজারে এক গ্লাসে দু’স্তরের চা তৈরি করে আলোড়ন তুলেছিলো। একে একে নিজের গড়া রেকর্ড নিজেই ভেঙ্গে চলেছে রমেশ।

বর্তমানে রামনগর মনিপুরী পাড়ার সম্মুখস্থ নীলকন্ঠ চা কেবিনে তৈরি হচ্ছে এক গ্লাসে ৭ স্তরের চা। এছাড়া ৯ প্রকারের চা তৈরি হয় তার চা কেবিনে। শ্রীমঙ্গলে ভ্রমনের শেষে অন্তত একবার চলে আসুন রমেশের নীলকন্ঠ চা কেবিনে। চা জাদুকর রমেশের তৈরি চা পান করলে ভ্রমনটাই যে আপনার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা
আপনার সময় অনুযায়ী শ্রীমঙ্গলের প্রধান আকর্ষন গুলো এভাবে দেখার জন্য সাজিয়ে নিতে পারেন-

৫দিন-- ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড, লাউয়াছড়ায় রাত্রি যাপন, ক্যাম্প ফায়ার এবং খুব ভোরে লাউয়াছড়ায় ৬-৭ঘন্টা হাটা (যারা বন্যপ্রানী দেখতে চান এবং তাদের ছবি তুলতে চান)।

৪দিন-- ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক, মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন...

৩দিন- ফিনলে টি গার্ডেন, লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট, মাধবপুর লেক অথবা মনিপুরি ও খাসিয়া পল্লী, নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।

২দিন- লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা, মাধবকুন্ড,পরিকুন্ড।

সকাল সন্ধ্যা - লাউয়াছড়া রেইনফরেষ্ট (ভিতরে চা বাগান আছে), নীলকন্ঠ সাত রঙ চা।

কি কি নেবেন
শীতকালে ভ্রমন করলে অবশ্যই শীতের কাপড় (শ্রীমঙ্গল বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম)

কিছু ঔষধ যেমন প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, অ্যাভিল, স্যাভলন ইত্যাদি।

হাটার জন্য স্নিকারস অথবা আরামদায়ক স্যন্ডেল।

বনে হাটাহাটি করতে চাইলে অতিরিক্ত বোঝা বহন না করাই ভাল, আর যদি নিতেই হয় তবে অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো হোটেল বা গাড়ীতে রেখে যান।

কিছু পরামর্শ
লাউয়াছড়া বাংলাদেশের একটি ন্যাশনাল পার্ক। বেশ কিছু বিলুপ্তপ্রায় এবং হুমকির সম্মুখীন বন্যপ্রানীর আবাসস্থল এটি, সুতরাং, বনের ভিতরে অযথা হৈচৈ করবেন না, আগুন জালাবেন না, বন্য প্রানীর ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না।

সিলেট জেলায় ঘোরাঘুরির স্থানসমূহ

Friday, November 20, 2015

সাজেক ভ্যালী


সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি ইউনিয়ন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন সাজেক আয়তনে বিশাল, বাংলাদেশের অনেক উপজেলার চেয়েও আয়তনে বড়। এটির অবস্থান খাগড়াছড়ি জেলা থেকে উত্তর-পুর্ব দিকে। মুল সাজেক বলতে যে স্থানকে বুঝায় সেটি হলো ‘রুইলুই’ এবং ‘কংলাক’ নামের দুটি বসতি, স্থানীয় ভাষায় ’পাড়া’। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ ফুট।সাজেকে মূলত লুসাই,পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।সাজেক থেকে ভারতের মিজোরাম সীমান্তের দুরত্ব ১০ কি.মি.।কমলা চাষের জন্য বিখ্যাত সাজেক।

সাজেক এমন একটি জায়গা যেখানে ভাগ্য ভাল হলে ২৪ ঘণ্টায় আপনি প্রকৃতির তিনটা রূপই দেখতে পারবেন । কখনো খুবই গরম একটু পরেই হটাৎ বৃষ্টি এবং তার কিছু পরেই হয়তো চারদিকে ঢেকে যাবে কুয়াশার চাদরে । রাতে এই দুর্গম পাহাড়ের চুড়ায় যখন সোলারের কল্যাণে বাতি জ্বলে উঠে তখন সৃষ্টি হয় অসাধারণ এক পরিস্থিতি । অনেক বাচ্চারা রোড লাইটের নিচে বই নিয়ে বসে পড়ে অথবা ঐ টুকু আলোর ভিতরেই খেলায় মেতে উঠে । সাজেকে ৩টা হ্যালি প্যাড আছে ৩টার সৌন্দর্য তিন রকম । এছাড়া রুইলুই পারা হতে হেটে আপনি কমলং পারা পর্যন্ত যেতে পারেন এই পারাটিও অনেক সুন্দর এবং অনেক উচুতে অবস্থিত । কমলার সিজনে কমলা খেতে ভুলবেন না । সাজেকের কমলা বাংলাদেশের সেরা কমলা । বাংলাদেশ আর্মিদের দারা রুইলুই পারার অধিবাসীদের জন্য একটা ছোট তাত শিল্প গরে তোলা হয়েছে । সুন্দর সুন্দর গামছা ,লুঙ্গী পাওয়া এখানে ।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে এস.আলম,ইকোনো,শান্তি, সৌদিয়া, ঈগল আর শ্যামলীর নন এসি আর সেন্টমার্টিন এর এসি বাস খাগড়াছড়ি যায়। ছাড়ে গাবতলী থেকে রাত ৯ টা আর সায়েদাবাদ থেকে ১১টার দিকে। খাগড়াছড়ি পৌছায় ৭টা-৮টার দিকে। ভাড়া নন এসি৫২০ ও এসি ৭০০ টাকা।খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকার ফিরতি বাস ছাড়ে সকাল ১১টা, বিকাল ৩ টা ও রাত ৯ টায়। শান্তি খাগড়াছড়ি হয়ে দীঘিনালা পৌছায় সকাল ৮টা ৩০ এর মধ্যে। শান্তির দিনে ও রাতে একাধিক বাস আছে।ভাড়া নন এসি৫৮০ ও এসি ৬৫০ টাকা।ফিরতি গাড়ী সন্ধ্যা ৭ টা ১০ এ। শ্যামলীর রংপুর থেকে, শান্তি নন এসি আর বিআরটিসি এসি চট্টগ্রাম থেকেও ছাড়ে।চট্টগ্রামের ফিরতি গাড়ী আছে সকাল পৌনে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

সাজেক রাঙ্গামাটিতে পরলেও খাগড়াছড়ি হয়ে যাতায়াত সুবিধা । শুধু সাজেকের জন্য (যারা আলুটিলা অথবা রিসাং যাবেন না) অবশ্য দীঘিনালা হয়ে যাতায়াত ভালো।

যারা খাগড়াছড়ি হয়ে আসবেনঃ ঢাকা-টু খাগড়াছড়ি আসবার জন্য এস.আলম, সৌদিয়া, ঈগল, শান্তি আর শ্যামলীর নন এসি আর সেন্টমার্টিন, বিআরটিসি এর এসি পরিবহনের বাস রয়েছে । খাগড়াছড়ি থেকে দিঘিনালা পর্যন্ত বাস/চান্দের গারি/ সিএনজি রয়েছে । বাসে অ চান্দের গারিতে ভারা ৪৫/- জনপ্রতি । দিঘিনালা থেকে জন ভেদে চান্দের গাড়ি অথবা মটর বাইক নিতে পারেন । একদিনের জন্য চান্দের গাড়ি ভাড়া পরবে ৩০০০/- টাকা ২দিনের জন্য ৫০০০/- ( কথা বলে নিতে হবে ) ১২/১৩ জন যেতে পারবেন । এছারা মটর বাইক রয়েছে আপডাউন ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

যারা রাঙ্গামাটি হয়ে আসবেনঃ রাঙ্গামাটি থেকে নৌপথে লঞ্চযোগে অথবা সড়কপথে বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.৩০ থেকে ১০.৩০ ঘটিকার মধ্যে লঞ্চ ছাড়ে। ভাড়া জনপ্রতি ১৫০-২৫০ টাকা। সময় লাগে ৫-৬ ঘন্টা। বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ৭.৩০ থেকে ৮.৩০ ঘটিকার মধ্যে বাস ছাড়ে, ভাড়া জনপ্রতি ২০০ টাকা। সময় লাগে ৬-৭ ঘন্টা। এছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া সম্ভব। ঢাকা থেকেও সরাসরি বাঘাইছড়ি যাওয়া যায়। বাঘাইছড়ি থেকে জীপ (চাদেঁর গাড়ি) অথবা মোটর সাইকেলে সাজেক ভ্যালীতে পৌঁছানো যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৩০০/-টাকা।

কখন যাবেন

শুধুই ঘুরাঘুরির জন্য হলে শীতকাল যাওয়া সবচেয়ে ভালো। আর আপনি যদি এডভেঞ্চার প্রিয় হন আর পাহাড়ের সত্যিকারের সৌন্দর্য দেখতে চান তবে বর্ষাকালে আসুন।

কোথায় থাকবেন

রিসোর্ট রূনময়:এটি রুইলুই পাড়ার শেষ প্রান্তে অবস্থিত বাংলাদেশ আর্মি পরিচালিত একটি রিসোর্ট। রুম আছে পাঁচটি।ভাড়া ৪৪৫০-৪৯৫০ টাকা।টেন্ট:রিসোর্ট রুনময়ের সামনেই আছে চারটি টেন্ট,প্রতিটিতে থাকা যায় চারজন করে।খাবার সরবরাহ করা রুনময় থেকে।ভাড়া প্রতি টেন্ট ২৮৫০ টাকা। (কিছুদিন আগে কালবৈশখীতে একদম ভেঙ্গেচুরে গিয়েছিল। ঝড়ের মৌসুমে না থাকাই ভালো)

সাজেক রিসোর্ট :রুইলুই পাড়ার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত আর্মি পরিচালিত এই রিসোর্ট। রুম আছে চারটি।ভাড়া ১০০০০,১২০০০ এবং ১৫০০০হাজার টাকা।

রিসোর্ট রুনময়,সাজেক রিসোর্ট এবং টেন্ট বুকিং-এর সব তথ্য তাদের(rock-sajek) ওয়েবসাইটে পাবেন।
আলো রিসোর্ট :এটি এনজিও সংস্থা আলো কতৃক পরিচালিত একটি রিসোর্ট।ছিমছাম এবং গোছানো একটি রিসোর্ট। অবস্থান রুইলুই পাড়ায় সাজেক রিসোর্টের সামনেই।ভাড়া ডাবল রুম ১০০০,সিঙ্গেল রুম ৭০০ টাকা।

আলো রিসোর্টের বুকিং এর জন্য;ruilui, sajek : 01863 606906head office : 01755 556699tel: 0371-62067
ক্লাব হাউজ:সেমি পাকা ঘরটি মূলত ওখানকার মানুষদের জন্য ক্লাব হিসেবে করে দিয়েছিলো আর্মি,তবে পর্যটক বেশি হলে অথবা এমনিতেই কেউ থাকতে চাইলে এখানে থাকা যায়।বিছানাপত্র কেয়ারটেকারই দিবে,ভাড়া ১৫০-২০০টাকা।খাবারের ব্যাবস্থা বললে কেয়ারটেকার করে দিবে,খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-২০০টাকা। স্টুডেন্ট/যাদের থাকবার জন্য মোটামুটি একটা ব্যাবস্থা হলেই হয় তারা রুইলুই-ক্লাব হাউজে থাকতে পারেন । এর সামনে ফাকা কিছু জায়গা আছে । রাতে বারবি কিউ/গানবাজনা অরথাত মজা করার জন্য উপযুক্ত । এছাড়া যদি নিজেরা ক্যাম্পিং করতে চান করতে পারবেন।ক্যাম্পিং করার জন্য রুইলুই পাড়ায় অনেক গুলো সুন্দর স্পট রয়েছে।তবে ক্যাম্পিং করার আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে বলে নেবেন।

কোথায় খাবেন

সাজেক রিসোর্ট, রিসোর্ট রুনময়,টেন্ট এবং আলো রিসোর্টে থাকলে খাবারের ব্যাবস্থা রিসোর্ট থেকেই হবে।ক্লাব হাউজে থাকলে সেখানকার কেয়ারটেকার কে দিয়ে খাবারের ব্যাবস্থা করতে পারবেন।এছাড়া যারা ক্যাম্পিং করবেন বা বাহিরে থাকবেন তারা মারুতি হোটেলসহ আরো দুএকটা আদিবাসী পরিচালিত হোটেলে খেতে পারবেন,তবে দুই ঘন্টা আগেই খাবার অর্ডার করতে হবে।খরচ হবে প্রতিবেলা ১৫০-২০০টাকা।রিসোর্ট রুনময় এবং আর্মি পরিচালিত ক্যান্টিনে অর্ডার করলেও ওরা খাবার করে দেবে তবে এখানে দাম তুলনামূলক একটু বেশি হবে।


খাবার ব্যাবস্থার জন্য পূর্বেই যোগাযোগ করে নিতে পারেন। মানুষ কম হলে ওইখানে গিয়েও করতে পারেন । ভাত + সবজি বললে রিসোর্টের তত্যাবধানে যিনি আছেন তিনি ব্যাবস্থা করতে পারেন মাছ/ মাংস পথে মাচালং বাজার থেকে নিয়ে গেলে ভাল হয়। সব চেয়ে ভাল হয় এক রাত সাজেক থাকলে ।

দর্শনিয় স্থান

সাজেক যাওয়ার পথে দিঘীনালা থেকে ৮কি.মি. দূরে দিঘীনালা-সাজেক রোডের পাশেই হাজাছড়া ঝর্ণা দেখে নিতে পারেন,মূল সড়ক থেকে ১০-১৫ মিনিট হাটলেই দেখা পেয়ে যাবেন এই অপূর্ব ঝর্ণাটির।

তৈদুছড়া নামে আরো একটি অসাধারণ ঝর্না রয়েছে দিঘীনালায়,তবে এটি দেখতে হলে আপনাকে আলাদা করে একদিন সময় রাখতে হবে শুধু এই ঝর্ণাটির জন্য।দিঘীনালার জামতলি থেকে হেঁটে এই ঝর্ণায় জেতে আসতে সময় লাগবে প্রায় ৬-৭ঘন্টা।দিঘীনালা বাস স্টেশন থেকে ইজিবাইকে জামতলি যেতে পারবেন,ভাড়া প্রতিজন ১০টাকা।এই ঝর্ণায় যাওয়ার সময় অবশ্যই সাথে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার নিয়ে যাবেন সাথে,কারন জামতলির পরে আর কোন দোকান নেই।তৈদুছড়া ঝর্ণায় জেতে হলে স্থানীয় অথবা পথ চেনে এমন কাউকে সাথে নিতে হবে।দিঘীনালা-সাজেক রোডের নন্দরামে নেমে যেতে হবে সিজুক ১ এবং ২ ঝর্ণায়, পায়ে হেটে আসা যাওয়ায় সময় লাগবে ৬-৮ ঘন্টা,সাথে খাবার এবং গাইড নিয়ে যেতে হবে অবশ্যই। সাজেক নামে আলাদা করে কোন বাজার বা এমন কিছু নেই।রুইলুই পাড়াতেই সব রিসোর্ট এবং দোকান।এই পাড়াতেই রয়েছে তিনটি হেলিপ্যাড এবং আর্মির তৈরি পার্ক। সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করা হয় রুইলুই পাড়া এবং কংলাক পাড়া থেকে।রুইলুই থেকে কংলাক পাড়ায় হেটে যাওয়া যায়,অথবা নিজেদের গাড়ি থাকলে গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়,দূরত্ব দুই কি.মি. প্রায়।পুরোটাই কাঁচা সড়ক।কংলাকে মূলত লুসাইদের বসবাস,ইদানিং কিছু ত্রিপুরা পরিবার সেখানে বসবাস করছে।চার বছর আগে কংলাকে যেয়ে অনেক পাংখোয়া আদিবাসীর দেখা পেয়েছিলাম,এখন তারা পাহাড়ের আরো গহীনে চলে গেছে।স্থানীয় লুসাইদের কাছে শুনলাম ওরা বেশি জনসমাগম পছন্দ করেনা।তাই এই দিকে বেশি পর্যটক আসাযাওয়া শুরু হওয়ার কারনে ওরা আরো গহীনে চলে যায়।সাজেকের সকালটা একরকম সুন্দর,বিকেলটা আবার অন্যরকম,রাতে চাঁদের আলোয় যদি সাজেকের সুনসান রাস্তায় হাঁটা না হয় তবে সাজেক ভ্রমনই বৃথা!সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অন্তত এক দুইদিন থাকতেই হবে।সাজেক যাওয়ার ভালো সময় বর্ষা এবং শীত।বর্ষার টুপটাপ বৃষ্টি, হাতের কাছে নেমে আসা মেঘ আর চারদিকের সবুজ মিলিয়ে সাজেক যেন পাহাড়ের রানী হয়ে উঠে।শীতের কুয়াশাঢাকা সাজেক আবার আলাদা রকম সুন্দর।

টিপস

ইদানীং সাজেক রোডে ছোটছোট আদিবাসী ছেলেমেয়েরা গাড়ি দেখলেই রাস্তায় এসে হাত নাড়াতে থাকে,ওরা মনে করে সব গাড়ি থেকেই চকলেট দেবে।এটা আগে ছিলোনা।ব্যাপারটা ভালো আবার খারাপ।ওদের জন্য কিছু নিয়ে যাবেন, তাদের কে দেবেন, ভালো কথা তবে এতে করে যে ওদের অভ্যাস খারাপ করে ফেলছি আমরা সেদিকেও নজর দেয়া উছিৎ।ওরা যখন দৌড়ে রাস্তার উপরে চলে আসে তখন পেছন থেকে একটা গাড়ি চলে আসলে কি হবে একবার ভাবেন।সাজেক রোডের বাঁকের জন্য গাড়ি আসছে কিনা তা খুব বেশি দূর থেকে দেখা যায়না।তাই কিছু যদি দিতে হয় তবে গাড়ি থামিয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে দিবেন।

সাজেক শুধু রবি এবং টেলিটক নেট পাওয়া যায়,তাই আসার সময় এর যে কোন একটি অপারেটরের সিম নিয়ে আসবেন।রবি'র নেটওয়ার্ক অপেক্ষাকৃত ভালো।পারলে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে আসবেন।সাজেকে বিদ্যুৎ নেই।সোলার পাওয়ারে চার্জ হতে সময় লাগে বেশি এবং সহজলভ্য নয়।

দিঘীনালা-সাজেক রোডে বাঁক গুলো যথেষ্ট বিপদজনক এবং পাহাড় অনেক খাড়া তাই যারা জীপের ছাদে যাবেন সতর্ক থাকবেন।অনেকেই ছাদে বসে ছবি তোলায় মগ্ন থাকেন,এই অবস্থায় জীপ মোড় ঘোরার সময় কোন কিছু ধরে না থাকার কারনে পড়ে যেতে পারেন এবং ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

নিজের গাড়ি নিয়ে অথবা ভাড়া করা মাইক্রো /কার নিয়ে সাজেক যাওয়া যায়,তবে সবচেয়ে ভালো হয় এই রোডে নিয়মিত যাতায়াত করা কোন চালকের গাড়িতে গেলে।বিশেষ করে দিঘীনালা থেকে সাজেক পর্যন্ত। এই রোডটুকুই ঝুঁকিপূর্ণ।চালকের সামান্য ভুলে মুহুর্তেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

যেহেতু সাজেক রোডে নিদিষ্ট কোন গাড়ি নেই তাই ড্রাইভাররা পর্যটক দেখলে যেমন খুশি ভাড়া চেয়ে বসে থাকে।দরদাম করে গাড়ি নেবেন।

আপনি চাইলে আদিবাসীদের ঘরে ঢুকে ছবি তুলতে পারবেন,কোন সমস্যা নাই,তবে আগে অনুমতি নিয়ে নেবেন।অনেকেই দেখি অনুমতি ছাড়াই আদিবাসী মেয়েদের ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে, সেখানে আবার রসালো মন্তব্যও করতে দেখা যায় অনেককে।ছবি গুলো দেখলেই বোঝা যায় এটা বিনা অনুমতিতে এবং তার অজান্তেই তোলা হয়েছে।এসব করতে গিয়ে যদি একবার ধরা খান তাহলে উত্তমমধ্যম খেয়ে বিচার দেয়ার জন্য 'কত্তিপক্ষ'ও খুঁজে পাবেন না।পাহাড়ের মানুষ সরল,তবে সরল মানেই বোকা ভাবা ঠিক নয়।আর এসব করে নিজের না যতটুকু ক্ষতি করবেন তার চেয়ে বেশি করবেন পরবর্তিতে যারা ঘুরতে যাবে তাদের।এসব চলতে থাকলে পর্যটকদের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাবে পাহাড়ের এই সরল মানুষ গুলোর।

দিঘীনালা-সাজেক রোডে নিরাপত্তা বাহিনীর চারটি ক্যাম্প পড়বে প্রতিটিতেই টীমের একজন সদস্য নেমে টীম সম্পর্কে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।

খাগড়াছড়ি যেতে ফেনী'র পরে আর সিএনজি ফিলিং স্টেশন নেই এবং দিঘীনালার পরে আর পেট্রল বা অকটেন পাম্প নেই,যারা নিজেদের গাড়ি নিয়ে যাবেন এই ব্যাপার গুলো খেয়াল রাখবেন।

দুইদিন তিনদিনের জন্য জীপ ভাড়া করে সাজেকে বসিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই,সাজেক এলাকাটাই এমন সেখানে ঘোরার জন্য গাড়ির প্রয়োজন হয়না।তাই যখন যাবেন শুধু যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করবেন।আসার সময় অন্য পর্যটক নিয়ে যাওয়া গাড়ি ফেলে সেগুলোতে চলে আসতে পারেন অথবা ফোন করেলও দিঘীনালা থেকে গাড়ি যেয়ে নিয়ে আসবে।* সাজেকে মোটামুটি সব ধরণের শুকনো খাবার পাওয়া যায়। চায়ের দোকান খোলা থাকে রাত ১১টা অবধি। অযথা ঢাকা থেকে বোঝা বইবেন না। তবে নিজেরা রান্না করে খেতে চাইলে অথবা বার বি কিউ করতে চাইলে প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র দিঘীনালা থেকেই নিয়ে নিতে হবে।

ট্যুর প্লান

রাতের বাসে, ঢাকা – খাগড়াছড়ি/দীঘিনালা
১ দিনঃ বাস থেকে নেমে সকালের নাস্তা সেরে -খাগড়াছড়ি/দীঘিনালা – সাজেক - আলো রিসোর্ট । ২দিনঃ সাজেক – দীঘিনালা – তৈদুছড়া ১ ও ২ ঝর্ণা অথবা সিজুক ১ ও ২ ঝর্ণা - খাগড়াছড়ি (রাতের বাসের টিকিট নিয়ে নিবেন)– (সময় থাকল)আলুটিলা ও গুহা – রিসাং ঝর্ণা-- খাগড়াছড়ি- ঢাকা ( রাতের বাসে )

কিছু প্রয়জনিয় নাম্বারঃ সাজেকের হেডম্যানঃ লাল তাঙ্গা লুসাই ০১৫৫২৭২৬৯৮৭ । সেন্টমারটিন পরিবহনঃ০১৭৩২৪০৬৩৫২, ০১৭৬২৬৯১৩৪০ । শ্যামলি পরিবহনঃ০১৮১৫২৭৩৯৪২,০২৯০১৪৫৬০ । বিআরটিসি আরামবাগঃ ০১৬৮৯৯২৮০৪২সৌদিয়া ফকিরারপুলঃ ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮